হেনরী ও শামীমের ব্যাংক হিসাব ৪৯, প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা লেনদেন

সোমবার দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসিফ আল মাহমুদ বাদী হয়ে এই দম্পতির বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করেন।
সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দ থেকে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন এক সময়ের রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী জান্নাত আরা হেনরী। ছবি- সংগৃহিত। 

সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দ থেকে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন এক সময়ের রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী জান্নাত আরা হেনরী। ছবি- সংগৃহিত। 

প্রকাশিত

সাবেক সংসদ সদস্য জান্নাত আরা হেনরী ও তার স্বামী শামীম তালুকদারের ৪৯টি ব্যাংক হিসাবের সন্ধান পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এসব ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৩ হাজার ৮৯৩ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে প্রায় ৭৮ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনেরও প্রমাণ পেয়েছে দুদক। এইসব অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে দুটি পৃথক মামলা দায়ের করেছে দুদক।

সোমবার দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসিফ আল মাহমুদ বাদী হয়ে মামলা দুটি দায়ের করেন। দুদক মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন এ বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। 

গত ২৫ নভেম্বর দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জান্নাত আরা হেনরী, তার স্বামী ও মেয়ের দেশত্যাগে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেয় আদালত। হেনরীর বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান শুরু হয় গত ২০ আগস্ট। গত ১ অক্টোবর মৌলভীবাজার থেকে স্বামীসহ গ্রেপ্তার হন তিনি।

সাবেক এ সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ৫৭ কোটি ১৩ লাখ ৭ হাজার ২২৩ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তার স্বামীর অবৈধ সম্পদের পরিমাণ ২০ কোটি ৪৭ লাখ ৩৩ হাজার ২১৫ টাকা। এজাহার ‍সুত্রে জানা গেছে, হেনরী অবৈধভাবে প্রাপ্ত অর্থ বা সম্পত্তির উৎস গোপন বা আড়াল করার উদ্দেশ্যে ৩৫টি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ২ হাজার ২ কোটি ৬৬ লাখ ৫৭৭ টাকা এবং আরও ১৩ কোটি ৭৮ লাখ ৪৬ হাজার মার্কিন ডলার (টাকার অংকে প্রায় ১৬০০ কোটি টাকা) সন্দেহজনক লেনদেন করেছেন।

হেনরী সোনালী ব্যাংকের পরিচালক থাকার সময়ে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ার সুবাদে অনিয়ম ও দুর্নীতিসহ ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন বলে দুদকের অনুসন্ধানে প্রমাণ পাওয়া গেছে।  এজাহারে বলা হয়, আসামি মো. শামীম তালুকদার (লাবু) তার স্ত্রী জান্নাত আরা হেনরীর অপরাধলব্ধ অর্থ দ্বারা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের মালিক হয়েছেন। তিনি তার ১৪টি ব্যাংক হিসাবে ৩০৬ কোটি ৬৭ লাখ ৬৯ হাজার ৮৬০ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন করেছেন।

মামলায় এই দম্পতির বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২), ৪(৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

logo
The Metro TV | দ্য মেট্রো টিভি | The Metro TV Bangladesh | Bangla News Today | themetrotv.com |The Metro TV News
themetrotv.com