আঞ্চলিক অর্থনৈতিক রূপান্তর: কুয়াকাটাকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে চান এমপি মোশাররফ

আঞ্চলিক অর্থনৈতিক রূপান্তর: কুয়াকাটাকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে চান এমপি মোশাররফ
প্রকাশিত

পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনের সাংসদ এবিএম মোশাররফ তার নির্বাচনী অভিজ্ঞতা, কুয়াকাটার উন্নয়ন এবং দেশের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক সংস্কার নিয়ে বিস্তৃত পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।

বেসরকারি টেলিভিশন, ‘চ্যানেল আই’- এর জনপ্রিয় অনুষ্ঠান, ‘ভিন্নমতে সহমত’- এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব বিষয় তুলে ধরেন।

নির্বাচনী অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সাংসদ বলেন, বিগত সময়ের ধারাবাহিক নির্বাচনে জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি, ফলে মানুষের মধ্যে ভোট দেওয়ার প্রবল আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সেই আগ্রহ ও উচ্ছ্বাস দৃশ্যমান হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এবারের নির্বাচন ছিল অবাধ ও নিরপেক্ষ, যেখানে জনগণ কোনো ধরনের চাপ ছাড়াই ভোট দিয়েছে এবং তিনি জনসমর্থনের ভিত্তিতে বিজয়ী হয়েছেন।

নিজের রাজনৈতিক পটভূমি সম্পর্কে তিনি বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই তিনি সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল-এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে রাষ্ট্র পরিচালনা ও রাজনৈতিক কাঠামো সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এলাকার মানুষের পাশে থাকার অভিজ্ঞতাই তাকে নেতৃত্বের জায়গায় দৃঢ় করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অঞ্চল উন্নয়নের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি কুয়াকাটার উন্নয়নে বিভিন্ন অবকাঠামোগত কাজ বাস্তবায়ন করেছেন। কুয়াকাটা-কে কেন্দ্র করে আবাসন ব্যবস্থা উন্নয়ন, মন্দির আধুনিকায়ন এবং প্রায় ৫০টি নতুন স্কুল ভবন নির্মাণের কথা তুলে ধরেন তিনি। তার নির্বাচনী এলাকা কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালী অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকায় সেখানে বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অভাব রয়েছে এবং অধিকাংশ মানুষের জীবিকা মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল।

এই প্রেক্ষাপটে তার মূল লক্ষ্য হলো কুয়াকাটাকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করা এবং পায়রা বন্দর-কে পুরোপুরি কার্যকর করা। তার মতে, বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেলে এ অঞ্চলে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করবে। উন্নয়ন অর্থনীতির দৃষ্টিতে এটি “আঞ্চলিক অর্থনৈতিক রূপান্তর”- এর একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত।

উপকূলীয় অঞ্চলের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে সাংসদ বলেন, নদী ও সাগর ভাঙন এ এলাকার অন্যতম প্রধান সমস্যা। এছাড়া জেলেদের জন্য মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময় বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করাও জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, উপকূলীয় অঞ্চলে টেকসই উন্নয়নের জন্য "জলবায়ু সহনশীলতা" এবং "জীবিকার বহুমুখীকরণ" অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শিক্ষা খাতের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিকের পর কারিগরি শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে তারা দ্রুত কর্মসংস্থানে যুক্ত হতে পারে। একই সঙ্গে রাঙ্গাবালীর মতো দুর্গম এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নকেও অগ্রাধিকার দিচ্ছেন তিনি।

রাজনৈতিক জবাবদিহিতার বিষয়ে তিনি বলেন, অতীতে রাজনৈতিক কাঠামোর ঘাটতি ও দমন-পীড়নের কারণে জনগণের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভবিষ্যতে ক্ষমতায় থাকলে জনগণের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি, অন্যথায় জনগণ আস্থা হারাবে।

সর্বোপরি, কুয়াকাটাকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা, পায়রা বন্দরের কার্যকারিতা বৃদ্ধি, এবং উপকূলীয় অঞ্চলে টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে পটুয়াখালী-৪ অঞ্চলটি দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

আরো পড়ুন

No stories found.
logo
The Metro TV | দ্য মেট্রো টিভি | The Metro TV Bangladesh | Bangla News Today | themetrotv.com |The Metro TV News
themetrotv.com