পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) আসনের সাংসদ রুহুল আমিন দুলাল তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি, রাজনৈতিক পথচলা এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন।
বেসরকারি টেলিভিশন, ‘চ্যানেল আই’- এর জনপ্রিয় টকশো, ‘ভিন্নমতে সহমত’- এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
সাংসদ বলেন, নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর এলাকার মানুষের প্রতি দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নই এখন তার প্রধান লক্ষ্য। তিনি আশ্বাস দেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
নিজের নির্বাচনী প্রস্তুতির প্রসঙ্গে তিনি জানান, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচনের আগে তাকে প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর থেকেই তিনি শিক্ষক, স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ শুরু করেন এবং মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
রাজনৈতিক জীবনের সূচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। মঠবাড়িয়া থানা কমিটিতে জয়েন্ট সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে তার সক্রিয় রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়।
এলাকার উন্নয়ন প্রসঙ্গে সাংসদ বলেন, কেবল অবকাঠামো নির্মাণই উন্নয়নের একমাত্র মানদণ্ড নয়; সামাজিক সমস্যা সমাধানও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মাদক সমস্যাকে তিনি বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, উপকূলীয় এই অঞ্চলে মাদক প্রবেশের একটি রুট রয়েছে, যা অতীতে আরও বিস্তৃত হয়েছিল।
তিনি অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী সময়ে কিছু সন্ত্রাসী গোষ্ঠী মাদক ব্যবসাকে ঘরে ঘরে ছড়িয়ে দিয়েছিল। তবে বর্তমানে মঠবাড়িয়ায় কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে দাবি করেন তিনি। মাদক নির্মূলে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান।
শিক্ষাখাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে তিনি বলেন, মঠবাড়িয়ায় শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সরকারের ঘোষিত নীতিমালা এবং দলের ইশতেহার অনুযায়ী শিক্ষা খাতে কাজ করা হবে।
স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে সাংসদ জানান, মঠবাড়িয়া উপজেলা হাসপাতালে কিছু উন্নয়ন কাজ থেমে থাকলেও তা দ্রুত সম্পন্ন করতে তিনি উদ্যোগ নিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সিভিল সার্জন ও স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে হাসপাতালের কক্ষ ও কর্মচারীদের আবাসন নির্মাণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এলাকায় বিদ্যমান অনেক বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালের যথাযথ অনুমোদন ও চিকিৎসক সংকট রয়েছে। এসব বিষয়ে নজরদারি জোরদার করা হচ্ছে, যাতে সাধারণ মানুষ মানসম্মত চিকিৎসা পেতে পারে। একই সঙ্গে সরকারি পর্যায়ে ভ্যাকসিন ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের এই বৃহৎ এলাকায় স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের উন্নয়নের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন সাংসদ। তার মতে, সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত না হলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মাদক নিয়ন্ত্রণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক সমন্বয়ের মাধ্যমে গৃহীত এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে মঠবাড়িয়া একটি নিরাপদ ও উন্নয়নমুখী অঞ্চলে পরিণত হতে পারে।