নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন টাঙ্গাইল-৭ আসনের সাংসদ আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী। তিনি বলেন, জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে তাদের ভালো রাখার চেষ্টা করাই তার প্রধান দায়িত্ব, এবং এমন কাজ করতে চান যাতে মৃত্যুর পরও মানুষ তাকে স্মরণ করে।
বেসরকারি টেলিভিশন, ‘চ্যানেল আই’- এর জনপ্রিয় অনুষ্ঠান, ‘ভিন্নমতে সহমত’- এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন ভাবনা তুলে ধরেন তিনি।
নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করে তিনি জানান, রাস্তাঘাট ও ধর্মীয় স্থাপনার উন্নয়ন ছিল তার মূল অঙ্গীকার। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার মুহূর্ত নিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন সময় স্বাভাবিকভাবেই ক্লান্তি ও দুশ্চিন্তা থাকে, তবে নিজের প্রতি আস্থা ছিল এবং বড় ব্যবধানে জয়ের প্রত্যাশাও ছিল। এ ক্ষেত্রে তিনি প্রতিটি এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্য থেকে কিছু প্রতিনিধি নির্বাচন করে বাস্তব পরিস্থিতি জানার ব্যবস্থা করেছিলেন।
এলাকার বর্তমান সমস্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, মাদকই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এই সামাজিক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন সম্ভব নয়। “আমি ভোটের হিসাব করি না, এলাকার উন্নয়নের হিসাব করি”- এভাবে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি।
প্রশাসনিক কাঠামো নিয়েও কথা বলেন তিনি। তার মতে, বিগত সময়ের প্রভাব কাটিয়ে প্রশাসন এখনো পুরোপুরি কার্যকর হয়ে উঠতে পারেনি। তবে, সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া গেলে এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে পরিস্থিতির উন্নয়ন সম্ভব।
উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তিনি বেশ কিছু উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে দুটি খাল খননের কাজ, যার একটি ইতোমধ্যে উদ্বোধন হয়েছে এবং অন্যটির টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া এলাকায় একটি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের জন্য জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে তরুণরা সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি দক্ষতা অর্জন করে দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়।
ভৌগোলিক বাস্তবতার কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, লৌহজং, বংশাই ও ধলেশ্বরী নদীবেষ্টিত এই অঞ্চলে একটি সেতু নির্মাণ পুরো এলাকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক চিত্র বদলে দিতে পারে।
পাশাপাশি আটিয়া ফরেস্ট অ্যাক্টের কারণে পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের ভোগান্তির বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি জানান, সংসদে এ নিয়ে কথা বলেছেন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেছেন।
জনগণের প্রতি নিজের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন,আমি একজন সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান এবং জনগণের কাছে সবসময় উন্মুক্ত থাকতে চাই। “আমার বাড়িতে আসতে কারো অনুমতির প্রয়োজন নেই”, বলে তিনি জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। রাজনৈতিক ভিন্নতা সত্ত্বেও উন্নয়নের স্বার্থে প্রতিপক্ষের ভালো পরামর্শ গ্রহণের কথাও জানান তিনি।
সবশেষে তিনি এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, “আমি আপনাদেরই সন্তান, আপনাদের ভাই হয়েই থাকতে চাই। রাস্তাঘাট, শিক্ষা ও পরিবেশ উন্নয়নের দায়িত্ব আমি নিয়েছি। আপনাদের দোয়া ও ভালোবাসা থাকলে এই দায়িত্ব পালন করতে পারব।”