

কুমিল্লায় একটি লেভেল ক্রসিংয়ে যাত্রীবাহী বাসে মেইল ট্রেনের ধাক্কায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন।
আজ রোববার ভোররাত ২টা ৪৫ মিনিটের দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার লেভেল ক্রসিংয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, ট্রেনটি মামুন স্পেশাল (মামুন পরিবহন) বাসকে ধাক্কা দিয়ে প্রায় আধা কিলোমিটার টেনে-হিঁচড়ে উত্তর দিকে জাঙ্গালিয়া-কচুয়া এলাকায় নিয়ে যায়।
কর্তৃপক্ষ জানায়, দুর্ঘটনার সময় লেভেল ক্রসিংয়ে কোনো গেটম্যান উপস্থিত ছিলেন না।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ইপিজেড ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ট্রেনের ধাক্কায় বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়ায় ঘটনাস্থলেই পাঁচজন নিহত হন।
পরে হাসপাতাল সূত্র নিশ্চিত করে, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২ জনে দাঁড়িয়েছে, যার মধ্যে সাতজন পুরুষ, তিনজন নারী এবং দুই শিশু রয়েছে। মরদেহগুলো হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। তবে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।
প্রাথমিকভাবে ১৮ জন আহত যাত্রীকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল, যাদের মধ্যে আটজন বর্তমানে চিকিৎসাধীন।
সকাল ৮টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত ট্রেনটি দুর্ঘটনাস্থলেই দাঁড়িয়ে ছিল এবং দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া বাসটি ট্রেনের সামনে আটকে ছিল।
দুর্ঘটনার পর পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আহত যাত্রীদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। পুলিশ জানায়, মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে এই ঘটনা তদন্তে দুটি কমিটি (একটি বিভাগীয় ও একটি আঞ্চলিক) গঠন করেছে বলে নিশ্চিত করেছেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীন। এ ছাড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও একটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এদিকে, পদুয়ার বাজার ক্রসিংয়ের গেটম্যান মেহেদী হাসান ও হেলাল উদ্দিনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
মামুন স্পেশাল বাসটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে লক্ষ্মীপুর যাচ্ছিল।
দুর্ঘটনার পর থেকে চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশনের মধ্যে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে।