

ছবি: সংগৃহীত
বালু উত্তোলন নিয়ে গোলাগুলিতে দুজন নিহতের ঘটনার পরদিন আবারও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার মেঘনা নদীতে। গুলিবর্ষণে ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা পিংকি আক্তার আহত হয়েছেন।
আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আধারা ইউনিয়নের কালিরচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহত নারী মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তিনি সন্তানও প্রসব করেছেন।
মুন্সিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. খলিলুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আহত নারীর মা নূরজাহান বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘গতকাল বৃহস্পতিবার মেঘনা নদীতে গোলাগুলিতে দুজন নিহতের ঘটনার জেরে আজ সকালে কিবরিয়া পক্ষে আমার ছেলে রাজু সরকারের বাড়িতে হামলা চালায় কানা জহিরের ভাই শাহিন ব্যাপারী ও তার লোকজন। এ সময় গুলিতে আমার ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে আহত হয়। আজকে তাকে ডেলিভারির জন্য হাসপাতালে নেওয়ার কথা ছিল।’
পিংকি আক্তার বলেন, ‘আমার ভাইয়ের সাথে ওদের ঝগড়া। আজকে শাহিন ও তার লোকজন আমার ভাইকে দৌড়ায়ে বাড়ির দিকে নিয়ে আসে। ভাই দৌড়ে ঘরে ঢুকে গেলে আমাকে দরজার সামনে পেয়ে গুলি করে দেয়।’
গুলির অভিযোগ অস্বীকার করে জহির ইসলাম ওরফে কানা জহির বলেন, ‘কিবরিয়া মিজির কাছ থেকে বালু ব্যবসার টাকা এনে এলাকায় ভাগ-বাঁটোয়ারা করছিল পিংকির বাবা শাহজাহান সরকার। এ নিয়ে এলাকায় বিতর্কের সৃষ্টি হলে নিজেরাই গুলির নাটক সাজিয়েছে।’
মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শৈবাল বসাক বলেন, ডান পাশে কোমরের নিচে গুলি ঢুকে অপর পাশ থেকে বের হয়ে গেছে। এ কারণে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত।
জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অভিযুক্তদের ধরতে চেষ্টা চলছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
ওসি মো. খলিলুর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনায় পিংকির স্বামী মো. সম্রাট বাদী হয়ে কানা জহির ও তার ভাইসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও সাত-আটজনকে আসামি করে মামলা করেছেন। আসামিদের ধরতে চেষ্টা চলছে। পিংকির সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে ডেলিভারি করানো হয়। মা ও নবজাতক ভালো আছে।’