

মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান থানাধীন চিত্রকোট, শেখরনগর ও রাজানগর ইউনিয়নে সন্ত্রাসী তোফাজ্জল ২০-২৫ জন কিশোর ও যুবক নিয়ে হাতুড়ি বাহিনী গড়ে তুলেছে। এই গ্যংয়ের সকলেই হাতুড়ি, চাপাতি ও দেশীয় অন্যান্য অস্ত্র বহন করে। তোফাজ্জল ও তার বাহিনী মাদক ব্যবসা থেকে শুরু করে মারপিট, চুরি, ডাকাতি, লুটপাট, ইভটিজিং ও হামলা-ভাঙচুর করে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। ওই বাহিনীর কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলেই তার উপর হামলা করা হয়। এ পর্যন্ত এ বাহিনীর আক্রমণে আহত হয়েছে প্রায় ১০ জন। অতিষ্ঠ হয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা ওই এলাকার সেনা ক্যাম্পে নালিশ করেছে।
গত ১৯ জানুয়ারী স্থানীয় সেনা ক্যাম্প কমান্ডার বরাবরে দেয়া অভিযোগ থেকে জানা যায়, বেশ কিছুদিন যাবৎ বড়াম (আড়াইবাড়িয়া) গ্রামের পরানের পূত্র কুখ্যাত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী তোফাজ্জল ওই এলাকার যুব সমাজকে মাদকের ভয়াল থাবায় নিমজ্জিত করে তুলেছে। তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মাদক ও ফৌজদারি মামলা চলমান রয়েছে। তোফাজ্জল তার সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও মাদক ব্যবসা বিস্তার করতে তার আপন ভাই মনিরসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের আনুমানিক ১৮-২৪ বছর বয়সী ২০/২৫ জনকে সংগঠিত করে মদ, গাজা, ইয়াবার ব্যবসা করছে।
তার বাহিনীতে আরও রয়েছে বাহেরচর বড়াম ইউনিয়নের কাওসার ও ইয়ামিন (পিতা-পলাশ), আবদুল্লাহ (পিতা-মনির), নাগেরহাটি, চিত্রকোটের মেহেদী (পিতা-বাবুল মোল্লা) ও শোয়েব (পিতা-ওহাব), গোপালপুরের (নামহাটি) রিফাত (পিতা:সাকিম) ও শিবলু (পিতা:মৃত সায়েদ)।
এই কিশোর গ্যাং এর প্রত্যেকে নিজের সাথে হাতুড়ি ও অস্ত্র নিয়ে চলাফেরা করে। হাতুড়ি বাহিনী নামক এই কিশোর গ্যাং স্কুল কলেজ পড়ুয়া মেয়েদের ইভটিজিং, মদ, বিয়ার, গাজা সেবন ও বিক্রয়, চুরি, ছিনতাই, দস্যুতা, ডাকাতি, মারামারি, ভীতি প্রদর্শনসহ সকল ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত। কেউ এদের বিরুদ্ধে ইভটিজিং, মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলে এই হাতুড়ি বাহিনী নামক কিশোর গ্যাং হাতুড়ি ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করে।
এই বাহিনীর আক্রমণে গত বছর আহত হয়েছে রিফাত (পিতা:ওবায়দুল)। ওই বছর এই হাতুড়ি বাহিনী কালীপুরের আইনজীবী রেজাউর রহমানকে গুরুতর জখম করে দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা লুট করে নেয়। এই ঘটনার প্রেক্ষিতেও সিরাজদিখান থানায় জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের হয়েছিল। এক্ষেত্রেও পুলিশ সন্ত্রাসী তোফাজ্জল ও তার হাতুড়ি কিশোর গ্যাং এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করে নীরব ভূমিকা পালন করে। এ ছাড়াও এই গ্যাং এর বিরুদ্ধে আরও অসংখ্য মামলা রয়েছে। পুলিশের নীরব ভূমিকার কারণে এরা আরও বেপরোয়া হয়ে ও হিংস্র হয়ে উঠেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে হাতুড়ি বাহিনী নাদিম (পিতা: মান্নান) কে স্কুল থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে হাতুড়ি ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করে। সাকিবকে (পিতা: সালাম খান) ধারালো অশ্র দিয়ে গুরুতর জখম করে। ফাহিম (পিতা: আজম খান) কে হাতুড়ি ও হকিস্টিক দিয়ে জখম করে। আসিফ (পিতা: আলতাফ) কে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জখম করে। ২৩ জানুয়ারী এই বাহিনী চিত্রকোট গ্রামের আবুল মেম্বারের ছেলেকে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করে। এরকম অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে ওদের বিরুদ্ধে।
সম্প্রতি এই কিশোর হাতুড়ি গ্যাং নিয়মিত মাদক সেবন করে চিত্রকোট হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজা মণ্ডপে আক্রমণ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে নৈরাজ্য সৃষ্টি ও জনমনে ভীতি সঞ্চার করেছে। এতে এই এলাকার দীর্ঘদিনের হিন্দু মুসলিম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হবার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়াও এখন এলাকাভিত্তিক ওয়াজ মাহফিলেও তারা সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করেছ।
সর্বশেষ গত ২০ জানুয়ারী রাত সাড়ে ১২টার দিকে এই বাহিনী মুন্সীগঞ্জ সিরাজদিখান উপজেলার চিত্রকোট ইউনিয়নের কালীপুর গ্রামে এক বাড়ীতে মোটরসাইকেল, সমিতির ঘরে আগুন, চাপাতি, রাম দা, পেট্রোল বোম, ককটেল বিস্ফোরণ করে আক্রমণ করেছে। সেখানে একটি সমিতির অফিসে হামলা করে জিনিসপত্র লুট ও ভাঙচুর করেছে। এ সময় মসজিদের মাইকে মাইকিং করে জনগণকে সতর্ক করা হয়। এই হাতুড়ে বাহিনীর ভয়ে দিনের বেলায় কেউ মুখ না খুললেও রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে এলাকাটির প্রায় ১৫ গ্রামরে বাসিন্দারা।