

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বিপিএম, পিপিএম।
সংবাদ সম্মেলনে ডিবি প্রধান বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জের ধরেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনের পরিকল্পনায় এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
ডিবি সূত্র জানায়, নিহত শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি বিভিন্ন সময় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে সভা-সমাবেশসহ ইলেকট্রনিক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনামূলক ও জোরালো বক্তব্য দিয়ে আসছিলেন। এতে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।
তদন্তে উঠে আসে, শহীদ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করা এজাহারনামীয় পলাতক আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ (৩৭) নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিল। এছাড়া, ফয়সাল করিম ও তার প্রধান সহযোগী মো. আলমগীর হোসেনকে পলায়নে সার্বিক সহায়তা দেন পল্লবী থানা যুবলীগের সভাপতি ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ কর্তৃক মনোনীত সাবেক কাউন্সিলর মো. তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী (৪৩)।
ডিবি প্রধান আরও জানান, আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং ভিকটিমের পূর্ববর্তী বক্তব্য বিশ্লেষণ করে এটা স্পষ্ট হয়েছে যে, রাজনৈতিক বিদ্বেষ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
ডিবি জানায়, সার্বিক তদন্ত, ধৃত আসামিদের ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় প্রদত্ত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সাক্ষ্য, ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, উদ্ধারকৃত আগ্নেয়াস্ত্র, বুলেট এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ফরেনসিক প্রতিবেদন পর্যালোচনার ভিত্তিতে আসামিদের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয়েছে।
এ ঘটনায় এজাহারনামীয় ও তদন্তে প্রাপ্ত মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১২০-বি, ৩০২, ২০১, ১০৯ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। ডিবি জানায়, ভবিষ্যতে নতুন কোনো তথ্য বা অন্য কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিললে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ রাজধানীর পল্টন থানাধীন বিজয়নগর বক্স কালভার্ট এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। এ ঘটনায় পল্টন থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়, যা পরে হত্যা মামলায় রূপ নেয়। দীর্ঘ ও নিবিড় তদন্ত শেষে মঙ্গলবার এই মামলার চার্জশিট দাখিল করে ডিবি।