মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেছেন, চা শিল্প, পর্যটন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানকে কেন্দ্র করে এলাকার উন্নয়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং পর্যটন খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বেসরকারি টেলিভিশন, ‘চ্যানেল আই’- এর টকশো ‘ভিন্নমতে সহমত’-এ অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, মৌলভীবাজার-৪ একটি বৈচিত্র্যময় এবং সম্ভাবনাময় জনপদ। চা বাগান, হাওর, বনাঞ্চল, জলপ্রপাত ও বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর সহাবস্থান এ অঞ্চলকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকায় পরিণত করেছে। পর্যটন শিল্পের আরও বিকাশ ঘটাতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে কাজ চলছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, এলাকার একটি বড় জনগোষ্ঠী প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে চা শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত। চা শ্রমিকদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনমান উন্নয়নের বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি শ্রমিকদের ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়েও সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
তিনি বলেন, মৌলভীবাজার-৪ আসনে পর্যটন, চা শিল্প এবং সম্ভাবনাময় শিল্প খাতকে সমন্বিতভাবে বিকশিত করা গেলে স্থানীয় পর্যায়ে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হবে। এ লক্ষ্যে শিল্পায়নের সুযোগগুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দক্ষ জনশক্তি নিয়ে ভাবনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিদেশগামী কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুই উপজেলায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যাতে তরুণরা প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করে বিদেশে ভালো কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতে পারে। এর মাধ্যমে রেমিট্যান্স আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মুজিবুর রহমান চৌধুরী আরও বলেন, স্বাস্থ্যসেবা খাতের উন্নয়নও তাঁর অন্যতম অগ্রাধিকার। সম্প্রতি ঘোষিত ১০০ শয্যার হাসপাতাল বাস্তবায়িত হলে এলাকার মানুষের চিকিৎসা সেবা প্রাপ্তি সহজ হবে। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় অবকাঠামো এবং গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নেও কাজ চলছে।
কৃষি উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, খাল পুনঃখনন ও পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের উদ্যোগ কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। নদীভাঙন ও বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দুর্ভোগ কমাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, উন্নয়নের ক্ষেত্রে দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চান তিনি। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং এলাকার সার্বিক অগ্রগতিই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
মুজিবুর রহমান চৌধুরী আশা প্রকাশ করেন, সমন্বিত পরিকল্পনা ও ধারাবাহিক উদ্যোগের মাধ্যমে আগামী কয়েক বছরে মৌলভীবাজার-৪ আসনে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পর্যটন, চা শিল্প ও কর্মসংস্থান খাতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।