

রাজধানীর বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবার মান তদারকিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালিত বিশেষ অভিযানে গুরুতর অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে। মঙ্গলবার পরিচালিত এ অভিযানে ২টি পৃথক টিম মোট ৭টি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ব্লাড ব্যাংক পরিদর্শন করে।
অভিযান শেষে অনিয়মের ভিত্তিতে ২টি প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ বন্ধ, ২টির কার্যক্রম আংশিক স্থগিত এবং ৩টিকে সতর্ক করা হয়েছে।
গজনবী রোডের যমুনা হাসপাতালে দেখা যায়, লাইসেন্সের মেয়াদ ৩০ জুন ২০২৪-এ শেষ হলেও তা নবায়ন করা হয়নি। অনুমোদিত ২০ শয্যার বিপরীতে ২৯ বেডে কার্যক্রম চলছিল। পরিদর্শনের সময় কোনো চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না।
আইসিইউ ও এনআইসিইউ ইউনিটে প্রটোকল অনুসরণ না করা, অপরিষ্কার পরিবেশ এবং অপারেশন থিয়েটারের নাজুক অবস্থা লক্ষ্য করা হয়। রোগীদের অবৈধ প্রক্রিয়ায় ভর্তি করার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
ব্যবস্থা: আইসিইউ, এনআইসিইউ ও ইনডোর ভর্তি বন্ধ; ৪ রোগীকে অন্যত্র স্থানান্তরের নির্দেশ; কারণ দর্শানোর নোটিশ।
এই প্রতিষ্ঠানে ১০ শয্যার অনুমোদনের বিপরীতে ১৯ বেডে সেবা দেওয়া হচ্ছিল। অপারেশন থিয়েটার ও ওয়ার্ড ভিন্ন তলায় অবস্থিত এবং পোস্ট-অপারেটিভ রুম নেই।
এছাড়া পুরুষ ও নারী ওয়ার্ড পৃথকীকরণে ঘাটতি, স্যাম্পল কালেকশন রুমের অপ্রতুলতা এবং এক্স-রে রুমে নিরাপত্তা ত্রুটি পাওয়া যায়।
ব্যবস্থা: অপারেশন থিয়েটার ও ডায়াগনস্টিক কার্যক্রম বন্ধ; কারণ দর্শানোর নির্দেশ।
৫০ শয্যার এই হাসপাতালে জায়গার স্বল্পতা, পুরুষ ওয়ার্ডে বাথরুমের অভাব এবং দেয়ালে ড্যাম্প লক্ষ্য করা হয়। জরুরি বিভাগে কার্পেট ব্যবহারকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
তবে আইসিইউতে চিকিৎসকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
ব্যবস্থা: সতর্কতা ও কারণ দর্শানোর নোটিশ; নির্ধারিত তারিখে কাগজপত্রসহ উপস্থিতির নির্দেশ।
অনলাইন ডাটাবেইসে তালিকাভুক্ত কর্মীদের কাউকে পাওয়া যায়নি; নতুন জনবল দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনার প্রমাণ মিলেছে। এছাড়া বায়োমেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি ছিল।
ব্যবস্থা: কারণ দর্শানোর নির্দেশ; মালিককে তলব।
৩০ শয্যার এই হাসপাতালে কোনো চিকিৎসক বা নার্সের বৈধ নিয়োগপত্র পাওয়া যায়নি। পরিদর্শনের সময় চিকিৎসক অনুপস্থিত ছিলেন। এনআইসিইউতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই এবং পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর।
ব্যবস্থা: সকল স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম বন্ধ; ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে সংশোধনের নির্দেশ।
প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্সের ঘাটতি, ডিউটি রোস্টার না থাকা এবং অপারেশন থিয়েটারের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ পাওয়া যায়। অভিযোগ রয়েছে, ভুল তথ্য দিয়ে রোগীকে আইসিইউতে ভর্তি রেখে অতিরিক্ত বিল আদায় করা হচ্ছে।
ব্যবস্থা: আইসিইউ, এনআইসিইউ, ইনডোর ভর্তি ও অপারেশন থিয়েটার বন্ধ; সংশোধনের নির্দেশ।
পরিদর্শনের সময় প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ পাওয়া যায়, যা লাইসেন্সিং শর্তের পরিপন্থী।
ব্যবস্থা: পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কার্যক্রম বন্ধ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনিয়ম সংশোধন করে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। পুনঃপরিদর্শনে সন্তোষজনক অগ্রগতি না হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।