সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মেট্রোরেলের আয়-ব্যয়ের হিসাব ভাইরাল হয়েছে।

দেশ

ফেসবুকে ঘুরছে মেট্রোর আয়ের হিসাব, যা জানাল কর্তৃপক্ষ

নিজস্ব প্রতিবেদক

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মেট্রোরেলের চলতি মাসের প্রথম ১৮ দিনের আয়ের সঙ্গে আগের ছয় মাসের আয়ের তুলনা করে একটি পোস্ট ভাইরাল হয়েছে। যা সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানির (ডিএমটিসিএল) নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ।

আবদুর রউফ বলেন, 'এমন তথ্য কোথায় পেয়েছে। আমরা তো ছয় মাস আগের কোনো তথ্য দেই নাই। এমন কিছু বলিও নাই। ১৯ দিনের আয় কীভাবে ছয় মাসের আয়কে অতিক্রম করে? এটা তো বাস্তব সম্মত কোনো কথা না। এটার কোনো সত্যতা নেই।'

রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় মুঠোফোনে তিনি এসব কথা বলেন।

আবদুর রউফ বলেন, 'আমাদের দিনে আয় গড়ে ১ কোটি টাকার আশপাশে থাকে। সে হিসাবে চলতি সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৮ দিনে মেট্রোরেল আয় করেছে ২০ কোটি টাকার বেশি। আমাদের রাজস্ব উৎপাদন প্রক্রিয়ায় কিছুটা ফাঁক আছে।'

তিনি বলেন, ধরেন, কেউ এমআরটি পাস করে ১০ হাজার টাকা টপ আপ করল। সুতরাং এইখানে ১০ হাজার টাকা কিন্তু আয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলে ধরা হয়। এখন যদি সে ২ হাজার টাকা খরচ করে তার কার্ড জমা দিয়ে বাকি টাকা তুলে ফেলে, তাহলে কিন্তু আমার ৮ হাজার টাকা আয় থেকে চলে গেল। তাই টপ আপ করার পর পুরো টাকাটা ব্যবহার করে ফেললে তবেই এটা আয় হিসেবে আমরা ধর‍তে পারব।

আবদুর রউফ বলেন, 'সুতরাং আমরা আসলে এই সময়ে এসে আয়-ব্যয়ের সঠিক হিসাব বলতে পারব না। এটা বছর শেষে একবারে হিসাব করে বলা সম্ভব। আমাদের মেট্রোরেলের বিজ্ঞাপন, ব্যাংকসহ আরও অনেক খাতের আয়-ব্যয়ের হিসাব আছে। সেগুলো সব হিসাব করে আমাদের খরচ সেখান থেকে বাদ দিয়ে তবেই আমরা আয় বলতে পারব। তাই এটি চলমান প্রক্রিয়া। এজন্য এই আয়-ব্যয়ের তথ্য সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে বছর শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।'

এদিকে ভাইরাল পোস্টে দাবি করা হয়েছিল, চলতি সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৮ দিনে মেট্রোরেল আয় করেছে ২০ কোটি টাকার ওপরে। যেখানে আগের ছয় মাসে আয় ছিল ১৮ কোটি টাকা। যেখানে এই আগের ছয় মাস কোন বছরের সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য নেই।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ভাইরাল পোস্টগুলোতে উল্লেখ করা ছয় মাসের হিসাবটি ২০২২-২৩ অর্থবছরের চূড়ান্ত হিসাব। সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, মেট্রোরেল চালু হওয়ার পর থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত ১৮ কোটি ২৮ লাখ ৬ হাজার ৫১৪ টাকা আয় হয়েছে। অডিট ফার্মের নিরীক্ষা করা ২০২২-২৩ অর্থবছরের চূড়ান্ত হিসাব অনুযায়ী জুন মাস পর্যন্ত মোট আয় ১৮ কোটি ২৮ লাখ ৬ হাজার ৫১৪ টাকা।

প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর মেট্রোরেলের উত্তরা উত্তর থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত অংশ এবং ২০২৩ সালের ৪ নভেম্বর আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত অংশ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করেন। 

অর্থাৎ ছয় মাসের হিসাবটি চলতি বছরের নয়। বরং সেখানে বলা হয়েছে, মেট্রোরেল চালুর পর থেকে অর্থাৎ ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত মেট্রোরেল আয় করেছে ১৮ কোটি ২৮ লাখ ৬ হাজার ৫১৪ টাকা। ওই সময় মেট্রোরেল চলাচল করত উত্তরা উত্তর থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ জানিয়েছিলেন, ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৪৯ লাখ ৯ হাজার ৪৯ জন যাত্রী মেট্রোরেলে ভ্রমণ করেছে। এতে মেট্রোরেলের আয় হয়েছে ২০ কোটি ৬৭ লাখ ৩ হাজার ৫৯১ টাকা। এর মধ্যে দুই শুক্রবার সাপ্তাহিক বন্ধ ছিল। 

তিনি বলেন, গত বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) আমাদের আয় হয়েছে মাত্র ৫৪ লাখ ৯১ হাজার ১৪০ টাকা। ওই দিন ভায়াডাক্ট দেবে যাওয়ার কারণে সকাল সাড়ে ৯টার পর আগারগাঁও থেকে মতিঝিল অংশে মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ ছিল।

এর আগে গত ১২ সেপ্টেম্বর সর্বোচ্চ যাত্রী ভ্রমণ করেছে মেট্রোরেলে। এই বিষয়ে মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, এদিন ৩ লাখ ৪৩ হাজার ৮৯২ জন যাত্রী মেট্রোরেলে ভ্রমণ করেছে। এতে সেদিন মেট্রোরেলের আয় হয়েছে সর্বোচ্চ ১ কোটি ৪৬ লাখ ৫৭ হাজার ৫৬৬ টাকা। এ ছাড়া গড়ে প্রতিদিন ৩ লাখ মানুষ মেট্রোরেল ভ্রমণ করে।