নদী ও খাল শুকিয়ে যাওয়ার ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো দোহার-নবাবগঞ্জ এলাকাতেও মৎস্যজীবীরা চরম সংকটে পড়েছেন। জীবিকার প্রধান উৎস হারিয়ে অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এই বাস্তবতায় নদী ও খাল পুনঃখননের মাধ্যমে জলপ্রবাহ ফিরিয়ে আনা এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য পুনরুদ্ধারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনের সাংসদ খোন্দকার আবু আশফাক।
বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আই-এর জনপ্রিয় টকশো ‘ভিন্নমতে সহমত’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার উন্নয়ন পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
সাংসদ বলেন, নদী ও খাল শুকিয়ে যাওয়ায় মৎস্যজীবীরা চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে নদী ও খাল খনন অত্যন্ত জরুরি। তিনি জানান, ইছামতি নদী খনন করে তা বেড়ি বাঁধের মাধ্যমে পদ্মা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত করার একটি পরিকল্পনা তিনি হাতে নিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের সংযোগমূলক জলব্যবস্থাপনা (সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা) নদীর প্রবাহ বৃদ্ধি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি জনগণের মৌলিক চাহিদা ও মানসিক স্বস্তির বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি। সাংসদের ভাষায়, “উন্নয়ন প্রয়োজন হলেও, জনগণ মনে করেন উন্নয়নের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো শান্তিতে বসবাস নিশ্চিত করা।” এই দৃষ্টিভঙ্গি আধুনিক উন্নয়ন তত্ত্বের “মানবিক নিরাপত্তা” ধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে অবকাঠামোর পাশাপাশি মানুষের নিরাপত্তা ও স্বস্তিকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
আগামী পাঁচ বছরে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কাজের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে তিনি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি নিজের দেওয়া প্রতিশ্রুতি এবং ইউনিয়নভিত্তিক প্রয়োজনীয় কাজগুলোর একটি বিস্তারিত তালিকা প্রস্তুত করেছেন।
এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছেন। পাশাপাশি ছোট পরিসরের উন্নয়ন কার্যক্রমের জন্য জেলা পরিষদ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন বলে জানান তিনি। এ ধরনের বহুমাত্রিক সমন্বয়কে (বহু-স্তর শাসনব্যবস্থা) টেকসই উন্নয়নের অন্যতম কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
দোহার-নবাবগঞ্জকে একটি আধুনিক ও উন্নয়নমুখী উপজেলায় পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে সাংসদ বলেন, তার লক্ষ্য হলো এই অঞ্চলকে দেশের একটি “মডেল উপজেলা” হিসেবে গড়ে তোলা। এ লক্ষ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা, ভ্রমণ সুবিধা ও আবাসন খাতকে আধুনিক ও নিরাপদ করে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
এলাকার জনগণের প্রতি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জনগণ যে “পবিত্র আমানত” হিসেবে তাকে দায়িত্ব দিয়েছেন, তা যথাযথভাবে রক্ষা করতে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এলাকার উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ত্যাগ স্বীকারে তিনি প্রস্তুত বলেও উল্লেখ করেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নদী পুনরুদ্ধার, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং জনকেন্দ্রিক পরিকল্পনার সমন্বয়ে গৃহীত এই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে দোহার-নবাবগঞ্জ একটি টেকসই ও বাসযোগ্য মডেল অঞ্চলে পরিণত হতে পারে।