চ্যানেল আই-এর ‘ভিন্নমতে সহমত’ অনুষ্ঠানে ঢাকা-১৮ আসনের বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদী ও স্বল্পমেয়াদী উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন সাংসদ এস.এম. জাহাঙ্গীর হোসেন
বেসরকারি টেলিভিশ, ‘চ্যানেল আই’- এর জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘ভিন্নমতে সহমত’- এর একটি সাক্ষাৎকারে আসনের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন, ঢাকা-১৮ আসনের সাংসদ, এস.এম. জাহাঙ্গীর হোসেন।
তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো জনগণ যেন সেবা পায়। কর প্রদান করা নাগরিকের দায়িত্ব, কিন্তু সেবা না পাওয়ার পরও কর দেওয়া কঠিন। তাই সেবা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল অগ্রাধিকার।”
শুরুতেই জলাবদ্ধতার সমস্যার ওপর জোর দেন তিনি। দক্ষিণ-উত্তরের রেললাইনের দুই পাশে থাকা প্রাচীন ড্রেনগুলো বর্তমানে বন্ধ, যা নিয়মিত বন্যার সৃষ্টি করে। তিনি উল্লেখ করেন, “ড্রেনগুলো পুনরায় সচল করা হলে জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে।” এছাড়া আব্দুল্লাহপুর, কসাইবাড়ি, আজমপুর ও আশকোনা এলাকার চারটি প্রধান রাস্তা সংকীর্ণ হওয়ায় যানজট বৃদ্ধি পাচ্ছে।
জাহাঙ্গীর জানান, “যদি আমরা এই সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারি, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারবে।”
মাদক ও কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের কথাও জানান। “কিশোর গ্যাং ও মাদকের নিয়ন্ত্রণ সমাজের অপরাধ ও সহিংসতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ধাপে ধাপে এই সমস্যা নির্মূল করতে কাজ করছি।”
তিনি, এলাকার যুবসমাজের জন্য লাইব্রেরি, ফ্রি ওয়াইফাই জোন, এবং কালচারাল সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমরা জনগণের সঙ্গে পরামর্শ নিয়ে কাজ করি। যুবসমাজ এবং মুরুব্বীদের সহযোগিতা আমাদের সফলতার মূল চাবিকাঠি।”
তিনি আরও বলেন, “৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই এলাকায় রাজনীতি করছি। আমার লক্ষ্য জনকল্যাণ এবং সামাজিক উন্নয়ন। আমার নেতৃত্বাধীন কর্মীরা অপরাধমুক্ত, এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে নিশ্চিত শাস্তি হবে।”
পরিশেষে তিনি যুক্ত করেন, ঢাকা-১৮ আসনের উন্নয়নে স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। এই উদ্যোগগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে এবং জনগণকে স্বস্তিতে রাখাই প্রধান লক্ষ্য।
শেষে তিনি জনগণকে আশ্বস্ত করে বলেন, “আমরা সক্রিয়ভাবে কাজ করছি এবং জনগণের সহযোগিতা আমাদের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। এই উদ্যোগের মাধ্যমে আসনের মানুষ যেন নিরাপদ ও উন্নত জীবনযাপন করতে পারে, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।”