ঢাকা জেলা

প্রকাশ্যে রাজনীতির অন্তরালে চাঁদাবাজি: কার আশ্রয়ে কে?

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা-১২ আসনের সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে চাঁদাবাজিকে চিহ্নিত করেছেন সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন। তিনি বলেন, কারওয়ান বাজার, মহাখালী বাস স্ট্যান্ড, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলসহ ফার্মগেট এলাকার ফুটপাত পর্যন্ত চাঁদাবাজির বিস্তৃতি রয়েছে, যা ব্যবসায়ীদের জন্য মারাত্মক ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বেসরকারি টেলিভিশন, ‘চ্যানেল আই’-এর অনুষ্ঠান ‘ভিন্নমতে সহমত’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ঢাকা-১২ আসনের নান সংকট ও উত্তরণের পরিকল্পনা ব্যক্ত করেন এই বিরোধী দলীয় সাংসদ।

তিনি জানান, চাঁদাবাজির একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ তৈরি হয়েছে, যেখানে উপরের স্তরে চাঁদাবাজ এবং ভেতরে বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এ কারণে এককভাবে এ সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-এর সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি প্রশাসনের পাশাপাশি গণমাধ্যমের সহযোগিতাও কামনা করেন।

মাদক সমস্যাকেও তিনি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন। একটি পরিবারে মাদকসেবী সদস্য থাকলে কী ধরনের সংকট তৈরি হয়, তা ব্যক্তিগতভাবে অবগত আছেন জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণ, পুলিশ এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর-এর সমন্বয়ে এ সমস্যা মোকাবেলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মহাখালী এলাকায় রাস্তা দখল করে বাস রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, স্বশরীরে পরিদর্শন করে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হবে। স্থান সংকট থাকলে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এলাকার অন্যান্য সমস্যার মধ্যে পানি, গ্যাস, সিউয়ারেজ ও জলাবদ্ধতার বিষয়গুলোও তুলে ধরেন তিনি। এছাড়া হাতিরঝিল এলাকার নিরাপত্তা জোরদার এবং পরিবেশ দূষণ রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

চিকিৎসাসেবার উন্নয়নের অংশ হিসেবে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার একটি ছোট হাসপাতালকে বড় করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে জানান এমপি মিলন।

কিশোর গ্যাং সমস্যার বিষয়ে তিনি বলেন, এদের অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে কর্মসংস্থান সৃষ্টি সবচেয়ে জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি ছাড়া এ প্রবণতা প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে সরকারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এলাকার সার্বিক উন্নয়নে অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের সহযোগিতারও আহ্বান জানান তিনি।