ঢাকা জেলা

মাদকের ভয়াল থাবায় আক্রান্ত রাজধানী: অসহায় পুলিশ নিজেও

নিজস্ব প্রতিবেদক

মাদকাসক্তি বর্তমান সমাজের অন্যতম জটিল ও বহুমাত্রিক সংকট, যা ব্যক্তি, পরিবার এবং রাষ্ট্র-তিনটি স্তরেই গভীর নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে।

এটি কেবল একটি স্বাস্থ্যগত সমস্যা নয়; বরং সামাজিক অবক্ষয়, অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি এবং মানবসম্পদের অপচয়ের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।

রাজধানীতে, বিশেষত তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মাদকের বিস্তার ভবিষ্যৎ উন্নয়নকে হুমকির মুখে ফেলছে। তাই মাদকের প্রভাব ও এর প্রতিকার নিয়ে সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ সময়ের অপরিহার্য দাবি।

এ বিষয়ে, বেসরকারি টেলিভিশন, ‘চ্যানেল আই’- এর অনুষ্ঠান, ‘ভিন্নমতে সহমত’- এ দেওয়া সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন, ঢাকা-১২ আসনের সাংসদ, সাইফুল আলম মিলন। তিনি বলেন, মাদক সমস্যা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। একটি পরিবারে মাদকসেবী সদস্য থাকলে কী ধরনের সংকট তৈরি হয়, তা ব্যক্তিগতভাবে অবগত আছেন জানিয়ে মিলন বলেন, জনগণ, পুলিশ এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর- এর সমন্বয়ে এ সমস্যা মোকাবেলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, তেঁজগাও শিল্পাঞ্চল থানার আওতাভূক্ত, আলকাতরা বস্তি এলাকায় মাদকের স্বর্গরাজ্য গড়ে উঠেছে। দিনে-দুপুরে উন্মুক্ত রাস্তায় মাদক বিক্রয় করা হয়। এবিষয়ে মেট্রো টিভি কথা বলেছে, এই এলাকার মাদক-নির্মূল টীমের এ.এস.আই. গোলাম রসূলের সাথে।

তিনি জানান, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে আমি এই থানায় যোগদান করি। ওই সময়ের উদ্ভূত পরিস্থিতিতেও আমি আলকাতরা বস্তির মাদকের হাট ভেঙ্গে দিতে সক্ষম হই।

ওই এলাকার ২-১ জন ছাড়া সবাই মাদক ব্যবসায়ী ছিলো। দায়িত্ব পাওয়ার পর, ৩ মাসে আমি ৭৭ জন মাদক কারবারিকে আটক করেছি। ৪৪ জনের প্রসিকিউশন জমা দিয়েছি। এমনও সময় গেছে যে , আসামী কে থানায় নিয়ে আসার মতো গাড়ি ও পাইনি। তার থেকে জানা যায়, আলকাতরা এলাকায় শীর্ষ মাদকব্যবসায়ীদের ভিতর রয়েছে বাদশাহ, সোহেল, লালচান, প্রান্তি বেগম, আসমা, ভুট্টো, নাজমা, আব্বাস, চন্দু বেগম, রেখা, কানা হোসেন।

এতো তৎপরতার পরও কেনো মাদকের প্রভাব র‍য়ে গেছে, জানতে চাইলে এ.এস.আই. গোলাম রসুল বলেন, আপোষহীন থাকায় বর্তমানে আমি এই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পেয়েছি। ফলে, এখন পরিস্থিতি আবার আগের মতো হয়ে গেছে।