মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সাংসদ কামরুজ্জামান এলাকার উন্নয়ন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং সামাজিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় একাধিক উদ্যোগ ও অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছেন।
বেসরকারি টেলিভিশন, ‘চ্যানেল আই’- এর জনপ্রিয় টকশো, ‘ভিন্নমতে সহমত’- এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার রাজনৈতিক দর্শন, নির্বাচনী অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
সাংসদ বলেন, তিনি সবসময় সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপনে বিশ্বাসী। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ তৈরি এবং তাদের আস্থা অর্জনকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তার ভাষায়, একজন জনপ্রতিনিধির মূল কাজ হলো মানুষের হৃদয় জয় করা এবং তাদের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করা।
মুন্সীগঞ্জের প্রধান সমস্যা হিসেবে তিনি নদী ভাঙনকে চিহ্নিত করে বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনই এর অন্যতম কারণ। দায়িত্ব নেওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধে পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং দাবি করেন, বর্তমানে তার এলাকায় অবৈধ বালু ব্যবসা কার্যত বন্ধ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নদী ব্যবস্থাপনায় নিয়ন্ত্রণহীন বালু উত্তোলন তীরভাঙন ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের বড় কারণ।
মাদক সমস্যার দিকেও কঠোর নজর দেওয়ার কথা জানান তিনি। তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে ফিরিয়ে আনতে প্রশাসন, অভিভাবক এবং সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন। এ ক্ষেত্রে কাউন্সেলিং ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমকে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
পরিবেশ দূষণ প্রসঙ্গে সাংসদ বলেন, মুন্সীগঞ্জে অবস্থিত বিভিন্ন সিমেন্ট কারখানার বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলা হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য হুমকি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, শিল্প প্রতিষ্ঠান থাকবে, তবে তা অবশ্যই পরিবেশবান্ধব হতে হবে। বর্জ্য পরিশোধন ছাড়া নদীতে ফেলা যাবে না। একই সঙ্গে অবৈধ কারেন্ট জাল ব্যবহার বন্ধ করে মৎস্যসম্পদ রক্ষার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তরুণদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নে কারিগরি শিক্ষার ওপর জোর দিয়ে তিনি জানান, একটি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে ভাষা শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তরুণদের বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে। পাশাপাশি খেলাধুলায় আগ্রহ বাড়াতে একটি ব্যাডমিন্টন একাডেমি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
সততা ও স্বচ্ছতার বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে সাংসদ বলেন, তিনি ‘হালাল’ উপার্জনের নীতিতে বিশ্বাসী এবং কোনো ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে আপস করবেন না। দল-মত নির্বিশেষে সকল নাগরিকের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, কেউ বেআইনি কাজ না করলে তার বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।
অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রসঙ্গে নারায়ণগঞ্জের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ করতে সেতু ও রেল সংযোগের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে সহায়ক হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরিবেশ সংরক্ষণ, মাদক নিয়ন্ত্রণ, দক্ষ জনবল তৈরি এবং অবকাঠামো উন্নয়নের সমন্বিত উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে মুন্সীগঞ্জ একটি টেকসই, নিরাপদ ও উন্নয়নমুখী জেলায় পরিণত হতে পারে।