নরসিংদী জেলা

স্থানীয় কর্মসংস্থান গড়ে তুলতে শিল্পায়নের বিকল্প নেই:ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল

নিজস্ব প্রতিবেদক

বেসরকারি টেলিভিশন, ‘চ্যানেল আই’- এর জনপ্রিয় অনুষ্ঠান, ‘ভিন্নমতে সহমত’- এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে, নরসিংদী-৫ আসনের সাংসদ, ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন বকুল বলেন, এলাকার মানুষের জন্য কিছু করার চিন্তা থেকেই আমি রাজনীতিতে এসেছি এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি।

তিনি বলেন, জনগণের জন্য কাজ করাই তাঁর মূল লক্ষ্য এবং এলাকার দীর্ঘদিনের বাধাগুলো দূর করতেই তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন।চ

তিনি জানান, আমার এলাকার মেঘনা ও ব্রহ্মপুত্র নদঘেঁষা আটটি ইউনিয়নে অতীতে সংঘর্ষ, চাঁদাবাজি ও সহিংসতা ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। বড় মাছ ধরাকে কেন্দ্র করেও হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতো। তবে নির্বাচনের পর নৌকাঘাটের চাঁদাবাজি বন্ধ করা হয়েছে এবং অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তাঁর ভাষায়, আগে অবৈধ বালু উত্তোলনের টাকায় অস্ত্র কেনা হতো এবং সংঘর্ষ সৃষ্টি করা হতো, এখন সেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

এলাকার উন্নয়ন প্রসঙ্গে সাংসদ বলেন, নদীভাঙন রোধ, খাল খনন, রেলগেট সংস্কার এবং যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। মেঘনার ওপর একটি সেতু নির্মাণ হলে নবীনগর ও কুমিল্লার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি হবে এবং পুরো অঞ্চলের অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আসবে বলে তিনি মনে করেন। সমস্যা সমাধানে আমি সরাসরি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে গিয়ে কাজ করছি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। আমার মতে, বাস্তব সমস্যার সমাধানে মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তা জরুরি।

বিদেশে চাকরির অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় কাজ করার সময় আমি শৃঙ্খলা, পরিকল্পনা ও উন্নয়নের বাস্তব শিক্ষা পেয়েছি, যা এখন জনপ্রতিনিধি হিসেবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছি।

তরুণ প্রজন্ম ও খেলাধুলা নিয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলাধুলার সুযোগ বাড়াতে হবে এবং ছোটবেলা থেকেই খেলোয়াড় তৈরির পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। 

এই সাংসদ আরও বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে শিল্প ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারলে মানুষকে আর ঢাকামুখী হতে হবে না। এতে পরিবার ভালো থাকবে, সময় ও পরিবহন ব্যয় কমবে। যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হলে নরসিংদী দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকায় পরিণত হতে পারে। আমার মূল স্লোগান- “সবার আগে রায়পুরা, তারপর সবার আগে বাংলাদেশ।”

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে সাংসদ বলেন, অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা উচিত নয়। সঠিক পথে চলতে হলে আইন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, “রাতারাতি রাস্তা তৈরি করা সম্ভব, কিন্তু একজন মানুষকে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সময় লাগে।”

সাক্ষাৎকারের শেষদিকে তিনি বলেন, ভিন্নমত থাকতেই পারে, তবে যুক্তির মাধ্যমে মানুষকে বোঝানো সম্ভব। উন্নয়ন মানে শুধু অবকাঠামো নয়, বরং যানজট কমানো, সময় বাঁচানো, জ্বালানি সাশ্রয় এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম সম্প্রসারণও উন্নয়নের অংশ।

এছাড়া, ‘ভিন্নমতে সহমত’ অনুষ্ঠান সম্পর্কে তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ‘ভিন্নমতে সহমত’-এর মতো আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, জনগণের সামনে একজন জনপ্রতিনিধির প্রতিশ্রুতি, কাজ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা প্রয়োজন। নির্বাচনের আগে তিনি মানুষকে শান্তিপূর্ণ জীবন, মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন।