চাঁদাবাজি, মাদক এবং সরকারি ব্যায়ে দূর্নীতিই বর্তমানে আমাদের প্রধান সমস্যা। চাঁদাবাজ ও মাদকচক্রকে রাজনীতিবীদরাই আশ্রয়, প্রশ্রয় দিয়েছে। রাজনীতিবীদরা যেখানে জনগণের রক্ষক হওয়ার কথা, তারা ভক্ষক হিসেবে কাজ করেছে।
বেসরকারি টেলিভিশন, চ্যানেল আই- এর অনুষ্ঠান "ভিন্নমতে সহমত”- কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্র উন্নয়নের বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন, ঢাকা-১৪ আসনের সাংসদ ব্যারিস্টার আরমান হোসেন।
উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে শুরুতেই তিনি বলেন, সরকারি বরাদ্দের ১০ ভাগ মানুষের জন্য ব্যয় হয়েছে, বাকি ৯০ ভাগ হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে। জনগণ খুব ভালো করেই জানে এই সমস্যার মূল হচ্ছে রাজনৈতিক শক্তি। আর এই রাজনৈতিক শক্তি দূর্বৃত্তদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। জনগণ এটাতে হাঁফিয়ে উঠেছে, জুলাই বিপ্লব তাদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
আমার তদারকির বড় একটা জায়গা হলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক দূর্নীতি হচ্ছে, টাকার বিনিময়ে শিক্ষক নিয়োগ হচ্ছে। যে উন্নয়ন কাজটি করতে ১০০ টাকা লাগে সেটিকে ১০০০ টাকা দেখানো হচ্ছে। এগুলো বন্ধ করতে হবে।
এবিষয়ে তিনি নিজে সরকারি যে বরাদ্দ আসবে তা স্বচ্ছতার সাথে ব্যয় করার অঙ্গিকার ব্যক্ত করেন এবং প্রতি ৬ মাস পরপর বরাদ্দ এবং খরচের হিসাব উন্মুক্ত করার কথা জানান।
তরুণ জনগোষ্ঠীকে উদ্বুদ্ধ করার বিষয়ে আরমান বলেন, তরুণদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো বেকারত্ব। যোগ্যতা থাকলেও তারা পড়াশোনা শেষ করে চাকরি পাচ্ছে না। আমার পরিকল্পনা হলো, এলাকায় স্কিল ডেভলপমেন্ট প্রোগ্রামের আন্ডারে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা। যাতে তারা কর্মমুখী হতে পারে। দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের সুযোগকে তারা যেনো আহরণ করতে পারে। তরুণদের খেলার মাঠ নাই, সুস্থ বিনোদনের সুযোগ নাই। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করে প্রতি ওয়ার্ডে একটি খেলার মাঠ করার কথা ভাবছি। বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে তাদেরকে ভালো কাজে ব্যস্ত রাখতে হবে, যেনো তারা অবৈধ ও অসৎ কাজে জড়িয়ে না পড়ে।
তরুণদের একটা আলাদা জীবনীশক্তি রয়েছে, এটা অনন্য। তরুণরাই ফ্যাসিবাদকে দূর করেছে। সুতরাং, সকল ভালো, সামাজিক কাজে তাদের সম্পৃক্ত রাখতে চাই।
নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ভাবনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম একটা বিষয় ছিলো, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য পৃথক একটি মার্কেট তৈরি করা। এখনতো আমি সরকারে নাই, আমি চেষ্টা করবো সরকারের সাথে যোগাযোগ করে এটা বাস্তবায়ন করার।
এছাড়া রুরাল ডেভেলপমেন্ট স্কিম এর আন্ডারে বিভিন্ন সুদ বিহীন ঋণ এর ব্যবস্থা করা যায়, যাতে তারা উদ্যোক্তা হিসেবে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে।
শিক্ষাসহ সব ক্ষেত্রে নারীদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো তথা নারীর ক্ষমতায়ন, জুলাই সনদের একটা উদ্যোগ। যেটার বাস্তবায়ন জরুরি। পাশাপাশি, সকল সামাজিক কাজে নারীদের সাথে সম্পৃক্ত করা দরকার। আমরা সবাই নারীদের নিয়ে কথা বলি কিন্তু কোনো কাজে নারীদের সাথে রাখতে চাইনা। আমি মনে করি বিভিন্ন কাজে নারীদের সম্পৃক্ততা আরো বাড়াতে হবে, যাতে তারা সমাজ গঠনের অংশীদার হতে পারে।