সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী ও খালে মাছ ধরতে গিয়ে ১৯ জন জেলেকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। অপহরণকারী সশস্ত্র একটি দল নিজেদের ‘ডন বাহিনী’ নামে পরিচয় দিয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীদের সহকর্মীরা। এ ঘটনায় সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকার জেলেদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাতে সুন্দরবনের দুর্গম এলাকা থেকে ফিরে আসা কয়েকজন জেলে জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মামুন্দো ও মালঞ্চ নদীর বিভিন্ন খালে মাছ ধরার সময় দস্যুরা একের পর এক নৌকায় হানা দেয়। এ সময় প্রতিটি নৌকা থেকে জেলেদের জিম্মি করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।
অপহৃত জেলেদের বেশিরভাগই সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের হরিনগর, কদমতলা, মথুরাপুর, মৌখালী ও ছোট ভেটখালী গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
জেলেদের ভাষ্য অনুযায়ী, অপহরণকারী দলের মধ্যে তারা কয়েকজনকে শনাক্ত করতে পেরেছেন। তাদের দাবি, দস্যুদের মধ্যে ২০১৮ সালে ‘ডন বাহিনী’র পরিচয়ে আত্মসমর্পণ করা আটিরউপর গ্রামের শাহাজান এবং একই এলাকার শফিকুল ইসলাম ওরফে ভেটে শফিকুল উপস্থিত ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মামুন্দো নদীর মাইটেভাঙা খাল থেকে তিনটি নৌকার তিনজন জেলেকে অপহরণ করা হয়। এ সময় দস্যুরা দুটি নৌকা ছেড়ে দিলেও একটি নৌকা নিয়ে যায়। এছাড়া মালঞ্চ নদীর মাইশারকোল খাল, উলোবাড়ি খাল, মামুন্দো নদীর রাজাখালী খাল এবং কলাগাছি এলাকা থেকেও বিভিন্ন নৌকা থেকে মোট ১৬ জন জেলেকে জিম্মি করা হয়।
ভুক্তভোগী জেলেরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালানো এবং সুন্দরবনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের জন্য বন বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে পশ্চিম সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. ফজলুল হক জানান, শুক্রবার রাতেই বিষয়টি তাদের নজরে আসে। খবর পাওয়ার পরপরই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং কোস্টগার্ডসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে।