বৃহস্পতিবার রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে কথা বলছেন বদিউল আলম মজুমদার। ছবি-সংগৃহিত।

 
দেশ

নির্বাচনী অপরাধীদের বিচার হওয়া উচিত: বদিউল আ. মজুমদার

‘এটা নিশ্চিত করেই বলা যায়- নির্বাচন কমিশনও বলেছে, ইভিএম হবে না। কারণ এটা দুর্বল যন্ত্র। এটার মাধ্যমে কারচুপি সম্ভব।’

নিজস্ব প্রতিবেদক

যারাই নির্বাচনী অপরাধ করেছেন, নির্বাচনকে বিতর্কিত করেছেন, নির্বাচনে কারচুরির আশ্রয় নিয়েছেন কিংবা কারচুপিকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছেন তাদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনা উচিত। এই মন্তব্য করেছেন নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান বদিউল আলম মজুমদার ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিগত সময়ের নির্বাচনগুলো নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে দায়বদ্ধ করা যাবে কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘বিগত কয়েকটি নির্বাচনে দেশের নির্বাচনি ব্যবস্থা ভেডে পড়েছে। নির্বাচনব্যবস্থাটা নির্বাসনে চলে গেছে। সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে আসা অংশীজনদের মতামত শুনেছি। এখানে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব এসেছে। অনেকেই মন খুলে খোলামেলা কথা বলেছেন। এটা আমাদের জন্য অনেক কাজে লাগবে। কোনো রাজনৈতিক দলে কেউ যেন উড়ে এসে জুড়ে বসতে না পারে। বসন্তের কোকিল হয়ে যেন মনোনয়ন না পায়। আবার, প্রস্তাবনার মধ্যে না ভোটের বিষয়ও এসেছে। এগুলোর পাশাপাশি যারা নির্বাচনি অপরাধ করেছে, নিরপেক্ষ বিচারের মাধ্যমে তাদের শাস্তি প্রদান করার প্রস্তাব এসেছে। আমি তো মনে করি এটা যৌক্তিক। কারণ, অন্যায় করে পার পেয়ে গেলে অন্যায় উৎসাহিত হয়।’

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, অন্যায় করে কেউ যদি পার পেয়ে যায়, তাহলে অন্যায়ে আরও উৎসাহী হয়।

ইভিএম প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা নিশ্চিত করেই বলা যায়- নির্বাচন কমিশনও বলেছে, ইভিএম হবে না। কারণ এটা দুর্বল যন্ত্র। এটার মাধ্যমে কারচুপি সম্ভব। নির্বাচন ব্যবস্থায় কোনো যন্ত্র ব্যবহার করতে হলে রাজনৈতিক ঐক্যমত দরকার। সেটা ছিল না। শুধু তাই নয়, ইভিএম কেনার ব্যাপারে কারিগরি উপদেষ্টা কমিটির যিনি প্রধান ছিলেন জামিলুর রেজা চৌধুরী, তিনিও এটাতে দ্বিমত করেছিলেন। সেটা উপেক্ষা করে কেনা হয়েছিল। এবার এটা হবে না, নিশ্চিত করেই বলতে চাই।’

নির্বাচন কবে হতে পারে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এই কমিশনের কাজ নির্বাচনের দিনক্ষণ নির্ধারণ করা না। আমাদের কাজ হলো নির্বাচনব্যবস্থাটা ভেঙে গেছে, এ ব্যাপারে অংশীদারের ভিত্তিতে কতগুলো সংস্কার প্রস্তাব করা। আমাদের নির্বাচন ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে। নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করতে হবে। ভোটার তালিকায় প্রবাসীদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে হবে। সর্বোপরি সুষ্ঠ নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে হবে। যার মাধ্যমে জনগণের প্রতিনিধিরা শাসনব্যবস্থা পরিচালনা করবে। জনগণের স্বার্থে এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করবে।’

নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার সংক্রান্ত এ মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংস্কার কমিশনের সদস্য নির্বাচন কমিশনের সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলি, শাসন প্রক্রিয়া ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার বিশেষজ্ঞ মীর নাদিয়া নিভিন, বিভাগীয় কমিশনার খোন্দকার আজিম আহমেদ, জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার প্রমুখ।