এলাকার উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দুর্নীতি-নিয়ন্ত্রণকে অগ্রাধিকার দিয়ে নিজস্ব পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন বগুড়া-৫ আসনের সাংসদ গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ। বেসরকারি টেলিভিশন, ‘চ্যানেল আই’- এর জনপ্রিয় অনুষ্ঠান, ‘ভিন্নমতে সহমত’- এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি।
সাংসদ বলেন, উত্তরাঞ্চল বিশেষ করে শেরপুরের মানুষ শান্তিপ্রিয় এবং তারা কোনো অন্যায় বা দুর্নীতির সঙ্গে আপস করতে চায় না, তাই তাদের প্রত্যাশা পূরণ করা জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমার দায়িত্ব।
এলাকার বাস্তব চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, শেরপুর-ধুনটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে এখনো বড় ঘাটতি রয়েছে। পর্যাপ্ত স্কুল-কলেজ ভবন গড়ে ওঠেনি, সংসদ সদস্যদের পক্ষ থেকেও অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত উদ্যোগ দেখা যায়নি। মাদ্রাসা খাতে কিছু উন্নয়ন হলেও স্বাস্থ্যসেবা এখনো সীমাবদ্ধ। পাশাপাশি শিক্ষিত ও নিরক্ষর, দুই ধরনের বেকারত্বই এই অঞ্চলের অন্যতম বড় সংকট বলে উল্লেখ করেন তিনি। বেকারত্ব দূরীকরণকে তিনি নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন।
ছয়বার নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে এলাকার সমস্যা সম্পর্কে নিজের গভীর অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জনগণের আস্থা ও মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে চান। ছোট বা বড়, যে দায়িত্বই আসুক, তা যথাযথভাবে পালন করার নীতিতে তিনি বিশ্বাসী বলেও জানান।
উন্নয়ন ও অবকাঠামো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকালে রাস্তাঘাটের উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন করা হয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে আরও নতুন সড়ক নির্মাণ ও অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি। দীর্ঘদিন অবহেলিত মানুষের জন্য সুযোগ তৈরি এবং প্রশাসনে স্থবিরতা দূর করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, চাকরিক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে অর্থ বা সুপারিশ ছাড়া যোগ্য প্রার্থীরা বঞ্চিত না হয়। ইতোমধ্যে প্রায় ৮ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
দুর্নীতি, মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এসব অপরাধ দমনে প্রশাসনের সব স্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে পুলিশ প্রশাসন ও স্বাস্থ্যখাতে সৎ ও দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি। কমিউনিটি হেলথ সেন্টারগুলোকে কার্যকর করার বিষয়টিও তার অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।
তিনি আরও জানান, এটিই তার শেষ নির্বাচন, এমন ঘোষণা দিলেও জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত মানুষের সেবা করে যেতে চান। সরকারের নির্ধারিত ১৮০ দিনের পরিকল্পনার চেয়েও দ্রুত গতিতে কাজ এগিয়ে নেওয়ার ইচ্ছার কথাও জানান তিনি।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শেরপুর ও ধুনট অঞ্চলে একটি সমন্বিত কমিটি গঠনের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তিনি। সাংবাদিক, সুশীল সমাজ এবং বিভিন্ন পেশাজীবীদের সমন্বয়ে গঠিত এই কমিটি চাঁদাবাজি ও মাদক প্রতিরোধ, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং অবকাঠামো উন্নয়নের অগ্রাধিকার নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
কৃষি ও শিল্পায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এলাকায় আলুসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন হলেও কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পান না। হিমাগার সংকট দূর করা, নদী খনন এবং পানির সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ প্রয়োজন। একইসঙ্গে তরুণদের দক্ষতা কাজে লাগাতে আইটি খাতে বিনিয়োগ ও সহজ ঋণ সুবিধা চালুর মাধ্যমে ১০০০ থেকে ২০০০ শিক্ষিত বেকারের কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
সবশেষে তিনি বলেন, প্রশাসনে যারা অবহেলিত বা নিলম্বিত ছিলেন, তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া উচিত। দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “চাঁদাবাজি বন্ধ করতে গিয়ে কেউ অসন্তুষ্ট হলেও সাধারণ মানুষের স্বার্থেই আমি কঠোর থাকব।” আগামী কয়েক বছরের মধ্যে শেরপুরের প্রতিটি পরিবারে অন্তত একজনের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাই তার মূল লক্ষ্য বলে জানান এই সংসদ সদস্য।