বগুড়া জেলা

অপরাধ নির্মূলে প্রয়োজন সকলের সমন্বিত প্রয়াস: পুলিশ সুপার, বগুড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক

বগুড়া জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধের ধরন এবং আধুনিক পুলিশিং কৌশল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন, বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার, মির্জা সায়েম মাহমুদ।

বেসরকারি টেলিভিশ্‌ ‘চ্যানেল আই’- এর জনপ্রিয় অনুষ্ঠান, ‘ভিন্নমতে সহমত’- এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।


পুলিশিংয়ের বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, পুলিশি দায়িত্ব সাধারণ চাকরির মতো নয়; দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করতে হয়। এই পেশার মূল শক্তি হলো টিমওয়ার্ক। পুলিশের বিভিন্ন স্তরের মধ্যে সমন্বয় না থাকলে কোনো কার্যক্রমই সফলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব নয়। তিনি তার পেশাগত অভিজ্ঞতার আলোকে বলেন, মাঠপর্যায়ে কাজের স্বচ্ছতা এবং পুলিশের কার্যক্রম জনসম্মুখে তুলে ধরা অত্যন্ত জরুরি।

জেলার বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সামাজিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অপরাধের ধরনও বহুমাত্রিক হয়ে উঠছে। উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসেবে বগুড়া জেলায় দীর্ঘ হাইওয়ে, শিল্পকারখানা এবং জনসংখ্যার ঘনত্ব, সব মিলিয়ে এখানে অপরাধের বৈচিত্র্য বেশি। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পুলিশ বাহিনীকে প্রযুক্তি ও দক্ষতায় আরও আপডেট করা হচ্ছে।

শহরের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষকে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাই পুলিশের প্রধান লক্ষ্য। বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী সামাজিক কাঠামোর পাশাপাশি বিভিন্ন গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব ও সংঘাত একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে। এর সঙ্গে মাদক সমস্যাও বড় উদ্বেগের বিষয়। এছাড়া, পুলিশিং এর নিয়মিত একটা দায়িত্ব হলো, ট্রাফিকিং। এ ক্ষেত্রে পরিবহন মালিক সমিতি ও অন্যান্য অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে অনলাইন জালিয়াতি, ব্যাংকিং প্রতারণা এবং পারিবারিক বিরোধ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিশেষ করে জমি-সংক্রান্ত বিরোধ পুলিশের কাছে আসা অভিযোগের একটি বড় অংশ দখল করে আছে, যা সামাজিক অস্থিরতার ইঙ্গিত বহন করে।

ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আদ্যোপান্ত নিয়ে তিনি বলেন, বগুড়া শহরের ‘সাতমাথা’ এলাকায় যানজট একটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। রাস্তার ওপর অনিয়ন্ত্রিত বাজার এবং পার্কিং সংকট এর প্রধান কারণ। এসব সমস্যা সমাধানে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি শহরকে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায় আনতে কাজ চলছে। তিনি প্রস্তাব করেন, ইজিবাইকসহ ছোট যানবাহনের জন্য ইউনিক নম্বর বা স্ক্যানার ব্যবস্থা চালু করা গেলে সেগুলো সহজে ট্র্যাক করা সম্ভব হবে, যা অপরাধ নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক হবে।

জনসচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় শুধু পুলিশের ভূমিকা যথেষ্ট নয়; জনগণের অংশগ্রহণও জরুরি। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, মানুষ নিজেরা আইন মানতে অনাগ্রহী হলেও অন্যের কাছ থেকে তা প্রত্যাশা করে। এই মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বগুড়াবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, জ্বালানি বা অন্যান্য সরবরাহ সংকট নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি মাদক ও ছিনতাই প্রতিরোধে জনগণকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রশাসন ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বগুড়াকে একটি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল এবং প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক নগরীতে রূপান্তর করা সম্ভব হবে।