নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য, ফজলে হুদা বাবু বলেছেন, শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার, প্রশাসনিক সেবার মানোন্নয়ন, কৃষিকে লাভজনক খাতে পরিণত করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠাই তার প্রধান রাজনৈতিক অগ্রাধিকার। তিনি মনে করেন, কৃষি উৎপাদন, বাজারজাতকরণ ও পরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ছাড়া দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধি সম্ভব নয়।
সম্প্রতি বেসরকারি টেলিভিশন, ‘চ্যানেল আই’- এর জনপ্রিয় অনুষ্ঠান, ‘ভিন্নমতে সহমত’- এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
ফজলে হুদা বাবু জানান, কর্পোরেট জীবন ছেড়ে ২০২২ সাল থেকে তিনি পূর্ণসময়ের রাজনীতিতে যুক্ত হন। দীর্ঘদিন মাঠপর্যায়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার পর নির্বাচনে অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি বলেন, সংসদ সদস্য হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে নয়, বরং মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার রাজনৈতিক অঙ্গীকার থেকেই তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বিষয়ে তিনি বলেন, কৃষকদের শোষণ বন্ধে কৃষিপণ্য বিক্রির প্রচলিত ওজন ব্যবস্থার অসঙ্গতি দূর করতে আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। এছাড়া কৃষকদের ধান, গম ও অন্যান্য শস্য প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে খাসজমির ওপর ভিত্তি করে পৃথক স্থান গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা, সামাজিক মূল্যবোধ এবং মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। সমাজের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক ও ধর্মীয় নেতাদের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া সামাজিক অবক্ষয় রোধ সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, এলাকায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য দুটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কর্মমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করতে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণভিত্তিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগও নেওয়া হবে।
স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ছোট যমুনা নদীর পুনরুদ্ধার, কৃষি ও হালকা শিল্পের বিকাশ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সংসদ সদস্য দাবি করেন, নির্বাচনের পর সরকারি অনুদান ও সহায়তা বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা কমিশন বাণিজ্য বরদাশত করা হবে না বলেও তিনি জানান। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে জনগণের প্রাপ্য সহায়তা জনগণের কাছেই পৌঁছে দিতে হবে।
শিক্ষা খাতের সংস্কারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি, যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা জরুরি। বিশেষ করে মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যায়ে দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের ব্যবস্থাপনায় সম্পৃক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।
কৃষি খাতকে দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে ফজলে হুদা বাবু বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি, বাজার বিশ্লেষণ এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষকদের আয় বৃদ্ধি সম্ভব। তিনি নেদারল্যান্ডসের কৃষি ব্যবস্থার উদাহরণ টেনে বলেন, কৃষিকে লাভজনক পেশায় পরিণত করা গেলে শিক্ষিত তরুণরাও এ খাতে আগ্রহী হবে।
তিনি বলেন, কৃষিপণ্যের বাজারজাতকরণে সবচেয়ে বড় বাধা পরিবহন ও গুদামজাতকরণ ব্যবস্থা। নওগাঁ অঞ্চল থেকে দ্রুত ও কম খরচে কৃষিপণ্য রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে পৌঁছানোর জন্য নতুন রেলপথ স্থাপনের প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি। তার মতে, এতে কৃষক যেমন ন্যায্যমূল্য পাবেন, তেমনি ভোক্তারাও কম দামে পণ্য কিনতে পারবেন।
সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রসঙ্গে ফজলে হুদা বাবু বলেন, সংসদের মূল কাজ আইন প্রণয়ন হলেও দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় জনপ্রতিনিধিদের স্থানীয় উন্নয়ন ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও সরাসরি সম্পৃক্ত থাকতে হয়। তিনি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ধারাবাহিক চর্চার মাধ্যমে জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে ওঠার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সাক্ষাৎকারের শেষে তিনি নওগাঁ-৩ আসনের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন এবং ভবিষ্যতেও জনগণের পাশে থাকবেন।