সিরাজগঞ্জ-৫, (বেলকুচি-চৌহালী) আসনের উন্নয়ন, যমুনা নদীর ভাঙন রোধ, তাঁতশিল্পের সংকট নিরসন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন, সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ, আমিরুল ইসলাম খান আলিম। তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর তার দায়িত্ব আরও বেড়ে গেছে এবং এলাকার মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করাই এখন তার প্রধান লক্ষ্য।
বেসরকারি টেলিভিশন, ‘চ্যানেল আই’- এর জনপ্রিয় অনুষ্ঠান, ‘ভিন্নমতে সহমত’- এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন, সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ আমিরুল ইসলাম খান আলিম।
এলাকার সমস্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, চৌহালীর প্রধান সংকট হচ্ছে যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙন। তিনি ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করেছেন এবং অস্থায়ী বালুর বস্তার পরিবর্তে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি রাস্তাঘাট উন্নয়ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সম্প্রসারণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অন্যদিকে, বেলকুচি এলাকার অর্থনীতি তাঁতশিল্পনির্ভর উল্লেখ করে তিনি বলেন, সুতা ও রঙের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় তাঁতিরা বর্তমানে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে আছেন। এখানে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার হ্যান্ডলুমে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ শাড়ি ও লুঙ্গি উৎপাদিত হলেও সরকারি প্রণোদনা ও ব্যাংক সুবিধা থেকে তারা বঞ্চিত। তিনি মনে করেন, তাঁতশিল্পকে যথাযথ সহায়তা না দিলে একসময় বিদেশ থেকে লুঙ্গি-শাড়ি আমদানি করতে হতে পারে। এজন্য তাঁতশিল্পে গ্যাস সংযোগ ও আধুনিক সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।
কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চৌহালী অঞ্চলে গরু, হাঁস-মুরগির খামার এবং ক্ষুদ্র কুটির শিল্প গড়ে তোলার মাধ্যমে মানুষের আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব।
যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, চৌহালীতে যাতায়াতের জন্য টাঙ্গাইল ও নাগরপুর হয়ে যেতে হয়। এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যোগাযোগ করতে হওয়ায় উন্নয়ন কার্যক্রম জটিল হয়ে পড়ে। তিনি চারটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান, যা নাগরপুর থেকে চৌহালী পর্যন্ত সংযোগ স্থাপন করবে।
দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, তার লক্ষ্য একটি মানবিক ও নিরাপদ সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। কোনো ধরনের অপকর্মকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, বেলকুচি ও মুকুন্দগাঁতী এলাকায় যানজট নিরসনে ইতোমধ্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া তাঁতিদের উৎপাদন যেন ডিজেল সংকট বা অন্যান্য সমস্যায় ব্যাহত না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে।
এলাকার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চৌহালীর নদীভাঙন রোধ, রাস্তা প্রশস্তকরণ, যমুনা নদীতে নেটওয়ার্ক সমস্যার সমাধান, তাঁতশিল্পে গ্যাস সংযোগ এবং দুধ উৎপাদনকারীদের জন্য মিল্ক ভিটার শাখা স্থাপন তার অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে। পাশাপাশি একটি ৫০ থেকে ৬০ শয্যার হাসপাতাল, কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী তিন বছরের মধ্যে প্রশাসন ও সরকারের সহযোগিতায় এলাকার দৃশ্যমান উন্নয়ন সম্ভব হবে।
সাক্ষাৎকারের শেষদিকে স্থানীয় ভাষায় তিনি এলাকার মানুষের উদ্দেশ্যে বলেন, তারা যেন ধৈর্য ধরে তার পাশে থাকে। তিনি তাদের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করে যেতে চান।