দেশ

কৃত্রিমভাবে শ্বাস নিচ্ছে শিশু হুজাইফা, হয়েছে স্ট্রোকও

নিজস্ব প্রতিবেদক

টেকনাফ সীমান্তে গুলিবিদ্ধ শিশু হুজাইফা আফনানের শারীরিক অবস্থা এখনো সংকটাপন্ন। কৃত্রিমভাবে চলছে শ্বাস-প্রশ্বাস। এরই মধ্যে তার স্ট্রোক হয়েছে বলে জানিয়েছে মেডিক্যাল বোর্ড। গতকাল বুধবার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে অনুষ্ঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের সভায় এ তথ্য জানান চিকিৎসকরা।

বোর্ডে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে শিশু হুজাইফার চিকিৎসা আপাতত দেশেই চলবে। এ ছাড়া বোর্ডের তথ্যে বলা হয়েছে, তার জটিল অবস্থার পেছনে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল ব্যাহত হওয়ার কারণকে দায়ী করা হয়েছে।

চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য অনুসারে, বর্তমানে যে চিকিৎসা চলমান, তার সঙ্গে অতিরিক্ত কিছু ওষুধ যুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে মস্তিষ্কের চাপ কমানোর জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হচ্ছে।

পাশাপাশি শিশুটিকে এখনো মেকানিক্যাল ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে, অর্থাৎ কৃত্রিমভাবে তার শ্বাস-প্রশ্বাস চলছে বলে জানানো হয়েছে।

মেডিক্যাল বোর্ড জানায়, হুজাইফার গ্লাসগো কোমা স্কেল অনুযায়ী জ্ঞানের মাত্রা ১৫-এর মধ্যে ৭, যা তার গুরুতর অবস্থাকে তুলে ধরছে। চিকিৎসকরা জানান, এ পর্যায়ে তার শারীরিক অবস্থার প্রতিটি পরিবর্তন অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

বোর্ড সভা শেষে ইন্টারভেনশনাল নিউরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হুমায়ুন কবীর হিমু বলেন, আপাতত দেশেই হুজাইফার চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তার অবস্থা অনুযায়ী পরবর্তী চিকিৎসা পরিকল্পনা ধাপে ধাপে নির্ধারণ করা হবে।

চিকিৎসকরা বলছেন, গুলিবিদ্ধ হয়ে মস্তিষ্কে রক্তনালির ক্ষতি ও স্ট্রোক একসঙ্গে হওয়ায় হুজাইফার চিকিৎসা অত্যন্ত জটিল। এ কারণে অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে তার চিকিৎসা দেশেই পরিচালনা করা হবে।

এর আগে চট্টগ্রাম থেকে গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে হুজাইফাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে আগারগাঁওয়ের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে আনা হয়।

এ সময় হাসপাতালটির যুগ্ম পরিচালক বদরুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে চিকিৎসা শুরু করেছি। পরে বিষয়টি জানানো হবে।’

৯ বছরের হুজাইফা কক্সবাজারের সীমান্ত লাগোয়া উপজেলা টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিল গ্রামের জসিম উদ্দিনের মেয়ে। গত রবিবার সকালে দাদার সঙ্গে নাশতা আনতে গিয়ে মায়ানমার থেকে ছুটে আসা গুলিতে আহত হয় সে।

টেকনাফ থেকে বিকেলে তাকে চট্টগ্রামে নিয়ে আসেন তার চাচা শওকত আলী। রাতে চট্টগ্রাম মেডিক্যালের চিকিৎসকরা মেয়েটির মাথায় অস্ত্রোপচার করলেও গুলি বের করতে পারেননি। মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউয়ে লাইফ সাপোর্টে থাকা হুজাইফার মস্তিষ্কের ‘চাপ কমাতে’ তার মাথার খুলির একটি অংশ খুলে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন আইসিইউ বিভাগের প্রধান ডা. হারুনুর রশীদ।