অর্থনীতি

বন্ধ হচ্ছে ৫ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: ব্যক্তি পর্যায়ের গ্রাহকরা আগে অর্থ ফেরত পাবেন

নিজস্ব প্রতিবেদক

ব্যাংকের পাশাপাশি বিগত সময়ে ব্যাপক লুটপাট হয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠানেও। আলোচিত পি কে হালদার একাই খালি করে দিয়েছেন অন্তত ৪টি প্রতিষ্ঠান। কাগুজে কোম্পানি খুলে ঋণের নামে বের করে নিয়েছেন হাজার কোটি টাকা। যা এখন পরিণত হয়েছে খেলাপিতে। গ্রাহকের জমানো টাকাও ফেরত দিতে পারছে না অনেক প্রতিষ্ঠান।

এদিকে, ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা না থাকায় ব্যাংক বহির্ভূত ৫টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তালিকায় আছে ফাস ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং।

এসব প্রতিষ্ঠানের বিতরণ করা ঋণের ৯০ থেকে শতভাগই খেলাপি। আর মোট আমানত আছে ৯ হাজার ৭৯ কোটি টাকার উপরে। এর মধ্যে ব্যক্তি আমানত ২ হাজার ১১৮ কোটি টাকা।

অবসায়নের আগে আমানতের অর্থ ফেরতের বিষয়টি চূড়ান্ত করতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক। ৫ হাজার ৬শ' কোটি টাকা বরাদ্দের লক্ষ্যে অর্থ মন্ত্রণলায়ে আবেদন করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেছেন, অবলোপনের বিষয়টা এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে সিদ্ধান্ত হয়নি, নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। স্কিম নিয়ে সহসাই কাজ শুরু হবে। ক্ষুদ্র আমানতকারীরা কীভাবে তাদের টাকা ফেরত পাবেন এবং এই টাকার যোগান কোথা থেকে আসবে এগুলো নিশ্চিত হওয়ার পরই হয়তো জুলাই থেকে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

অন্তবর্তী সরকারের সময়ে ২০টি দুর্বল আর্থিক প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে ৯টিকে অবসায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রথমে ৩টি এবং পরে আরো একটি প্রতিষ্ঠানকে ঘুরে দাঁড়ানোর সময় দেওয়া হয়। ব্যর্থ হলে তাদেরও একই পরিণতি হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

দুর্বল প্রতিষ্ঠান অবসায়নের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক নীতিগত সিদ্ধান্ত নিলেও বিকল্প নিয়ে সরকারের সাথে আলোচনা হতে পারে বলেও জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।