অর্থনীতি

বাণিজ্য যুদ্ধের আশঙ্কায় চাপ বাড়ছে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে

দুই প্রধান রপ্তানি বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়ায় অর্ডার কমা ও মূল্যচাপের আশঙ্কা, সতর্ক ব্যবসায়ীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে সম্ভাব্য বাণিজ্য যুদ্ধের আশঙ্কা নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। দুই অর্থনৈতিক শক্তির মধ্যে শুল্ক ও বাণিজ্য নীতিগত টানাপোড়েনের প্রভাব পড়তে পারে বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনে—যার সরাসরি অভিঘাত পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতে।

কেন বাড়ছে বাণিজ্য যুদ্ধের শঙ্কা

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ একে অপরের বিরুদ্ধে ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও সবুজ প্রযুক্তি খাতে ভর্তুকি ও শুল্ক সংক্রান্ত অভিযোগ জোরালো করেছে। কূটনৈতিক আলোচনা চললেও পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করা যাচ্ছে না। বিশ্লেষকদের মতে, এই উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক বাজারে চাহিদা কমে যেতে পারে।

বাংলাদেশের পোশাক খাত কেন ঝুঁকিতে

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির প্রায় ৬০ শতাংশের বেশি যায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রে। এই দুই বাজারে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হলে—

  • ক্রয়াদেশ কমতে পারে

  • দাম নিয়ে নতুন করে দরকষাকষি বাড়বে

  • ডেলিভারি ও পেমেন্টে বিলম্বের ঝুঁকি তৈরি হবে

বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে কিছু ইউরোপীয় ক্রেতা ভবিষ্যৎ অর্ডার নিয়ে ‘সতর্ক অবস্থান’ নিয়েছে।

শুল্ক কাঠামো বদলালে বাড়বে প্রতিযোগিতা

ইইউ যদি মার্কিন পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক ব্র্যান্ড বিকল্প উৎপাদন বাজার খুঁজতে পারে। এতে ভিয়েতনাম, ভারত ও তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ উৎপাদন ব্যয় ও ডলার সংকট বাংলাদেশের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।

অর্থনীতিবিদদের বিশ্লেষণ

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইইউ বাণিজ্য উত্তেজনা সরাসরি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নয়, তবে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বড় হতে পারে।

একজন বাণিজ্য বিশ্লেষক বলেন,

“বৈশ্বিক অনিশ্চয়তায় ক্রেতারা প্রথমে অর্ডার কমায়। পোশাক খাত যেহেতু ভোক্তা ব্যয়ের ওপর নির্ভরশীল, তাই বাংলাদেশ সবচেয়ে আগে ধাক্কা খেতে পারে।”

কী করতে হবে বাংলাদেশকে

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন—

  • বিকল্প বাজার (লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য) অনুসন্ধান জোরদার করতে হবে

  • উচ্চমূল্যের পোশাক ও টেকসই ফ্যাশনে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে

  • শ্রম উৎপাদনশীলতা ও প্রযুক্তি ব্যবহারে উন্নয়ন জরুরি

সরকারি পর্যায়ে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষার তাগিদও দিয়েছেন তারা।

সামনে কী অপেক্ষা করছে

যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তাহলে বৈশ্বিক মন্দার আশঙ্কা আরও বাড়বে। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ে চাপ তৈরি হওয়া প্রায় নিশ্চিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।