আসন্ন জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে আমেরিকান চেম্বার অফ কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচ্যাম) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানের কাছে তাদের বাজেট সুপারিশমালা পেশ করেছে।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক পরামর্শ সভায় অ্যামচ্যামের সদস্য ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই সুপারিশগুলো তুলে ধরা হয়। ফিলিপ মরিস বাংলাদেশ লিমিটেডের কান্ট্রি ম্যানেজার রেজা-উর-রহমান মাহমুদ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাবগুলো উপস্থাপন করেন।
সভায় অ্যামচ্যামের সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহমেদসহ সংগঠনটির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে রিকভার গ্লোবালের সিএফও ফেহমী মুহসিন ইউকসেল, কোকা-কোলা বাংলাদেশ বেভারেজেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাদাব আহমেদ খান, এইচএসবিসি বাংলাদেশের সিইও মাহবুব উর রহমান, মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল এবং অ্যামচ্যামের নির্বাহী পরিচালক চৌধুরী কায়সার মোহাম্মদ রিয়াদ উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও সিটিব্যাংক এন.এ. ও মেটলাইফের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন।
অ্যামচ্যামের প্রস্তাবে আয়কর আইন, ২০২৩; মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২; এবং কাস্টমস আইন, ২০২৩-সহ বিভিন্ন নীতিগত বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কর প্রশাসনে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও পূর্বাভাসযোগ্যতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মূল প্রস্তাবগুলো
সংগঠনটি দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি (DTAA)-এর আওতায় প্রত্যয়নপত্র প্রাপ্তির প্রক্রিয়া সহজীকরণ, আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী বৈদেশিক মুদ্রা রূপান্তরের প্রমিত পদ্ধতি চালু এবং উৎস করের হার যৌক্তিক করার সুপারিশ করেছে।
ব্যাংকিং খাতে সমতা আনতে বিদেশি ও স্থানীয় ব্যাংকের জন্য ৩৭.৫ শতাংশ করহার বজায় রাখা এবং অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের (OBU) জন্য ০-২০ শতাংশ পর্যন্ত অগ্রাধিকারমূলক করহার নির্ধারণের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। অ্যামচ্যামের মতে, এতে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (FDI) বাড়বে এবং রপ্তানি খাত আরও প্রতিযোগিতামূলক হবে।
পানীয় খাতে কর কমানোর সুপারিশ
বর্তমানে কার্বনেটেড ও মিষ্টিযুক্ত পানীয়ের ওপর প্রায় ৫৪ শতাংশ কর আরোপিত রয়েছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশি। এ প্রেক্ষিতে অ্যামচ্যাম সম্পূরক শুল্ক ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনার সুপারিশ করেছে। এতে উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে বলে মনে করছে সংগঠনটি।
ডিজিটাল অর্থনীতিতে জোর
ডিজিটাল আর্থিক অন্তর্ভুক্তি জোরদার করতে স্মার্ট কার্ড ও পিওএস মেশিনে শুল্ক কমানো, ডিজিটাল পেমেন্টে প্রণোদনা প্রদান এবং দ্রুত ও সম্পূর্ণ ডিজিটাল কর ফেরত ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া সরকারি সিকিউরিটিজ লেনদেন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা, পুনর্ব্যবহার খাতে ভ্যাট ছাড় প্রদান এবং বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগ বাড়াতে কর কাঠামো সমন্বয়ের সুপারিশও করা হয়েছে।
অ্যামচ্যামের মতে, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা গেলে বিনিয়োগ পরিবেশে আস্থা বাড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং দেশের অর্থনীতি আরও গতিশীল ও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে।