শিক্ষা

সিয়ামের মরমি যাত্রা ॥

নেয়ামত ভূঁইয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক

সিয়াম এলে হৃদয় হয় এক নির্জন খানকাহ,

যেখানে নীরবতাই জিকির, ক্ষুধাই মুর্শিদ।

শুকনো ঠোঁটে লেখা থাকে অদেখা দরুদ,

আর অন্তর জুড়ে বাজে অনন্তের বাঁশি।

তৃষ্ণা তখন কেবল জলহীনতা নয়;

এ এক লাইলীর খোঁজে মজনুর পিপাসা।

নিজের শূন্যতায় দেখি সৃষ্টির পূর্ণতা,

অভুক্তির মাঝে খুঁজি রহমতের স্বাদ।

এক টুকরো রুটি হয় দরবেশের দান,

এক ফোঁটা জল—অন্তরের কাওসার।

সিয়াম যেন আত্মার ধীরে ধীরে গলন,

অহংকারের বরফ গলে ঝরে নীরব স্রোত।

রাতের অন্ধকারে জ্বলে নূরের প্রদীপ,

সিজদা হয় আকাশের সাথে গোপন সংলাপ।

অশ্রু তখন শুধু দুঃখ নয়;

এ এক গোপন দরজা, যেখানে ক্ষমা নেমে আসে।

তাকওয়া ফুটে ওঠে হৃদয়ের গোলাপবাগানে,

যার প্রতিটি পাপড়িতে লুকানো আল্লাহর নাম।

সংযম তখন আর নিয়ম নয়;

এ এক প্রেম, যা নিজেকে বিলিয়ে দেয়।

সিয়াম এক সফর—নিজ থেকে তাঁর দিকে,

যেখানে পথিক নিজেই হারিয়ে যায় পথে।

ক্ষুধা হয় সেতু, ত্যাগ হয় ডানা,

আর ভালোবাসা পৌঁছে দেয় লা-মাকানে।

এই যাত্রার শেষে নেই কোনো শেষ,

শুধু খুলে যায় অনন্তের দরবার।

যেখানে বান্দা নয়—শুধু প্রেম থাকে,

আর সেই প্রেমই জান্নাতের প্রকৃত রূপ।

শেষ সিজদায় যদি নিভে যায় আমার অহমের

সব গ্লানিকর ‘আমি’,

তোমারই নূরের তাজাল্লিতে আমি জ্বলে উঠবো— ও গো অন্তর্যামী!