প্রবাস

দক্ষ জনশক্তির মাধ্যমে প্রবাসী শ্রমবাজার উন্নত করা হবে: প্রতিমন্ত্রী নুর

নিজস্ব প্রতিবেদক

কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রবাসী কল্যাণ এবং বৈদেশিক শ্রমবাজার সম্প্রসারণে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের কথা জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।

বেসরকারি টেলিভিশন, 'চ্যানেল আই'- এর জনপ্রিয় অনুষ্ঠান, 'ভিন্নমতে সহমত'- এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, নির্বাচনী প্রেক্ষাপট, প্রবাসী শ্রমবাজার এবং কর্মসংস্থান খাতের বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে মানুষের অধিকার আদায়ে কাজ করার পর সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাওয়া তার জন্য এক ধরনের স্বাভাবিক অগ্রগতি। একইসঙ্গে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়া তাকে জনগণের জন্য কাজ করার একটি বৃহৎ পরিসর তৈরি করে দিয়েছে।

প্রবাসী শ্রমবাজার প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হচ্ছে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিশেষ করে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো। এ লক্ষ্যে একটি পৃথক অধিদপ্তর গঠন এবং একটি সমন্বিত ডেটাবেস তৈরির পরিকল্পনার কথা জানান তিনি, যার মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগদাতাদের মধ্যে সংযোগ স্থাপন সহজ হবে। আধুনিক শ্রমবাজার ব্যবস্থাপনায় এটিকে “Labour market information system (LMIS)” হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

বিদেশগামী শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, দক্ষ জনশক্তি তৈরি ছাড়া আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতা করা সম্ভব নয়। ইতোমধ্যে দেশে ১০০টির বেশি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার রয়েছে, যা আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে জাপানের মতো নতুন শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়েছে, যেখানে আগামী কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মী পাঠানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ভাষাগত ও কারিগরি দক্ষতা অর্জন এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।

প্রবাসী খাতে অনিয়ম ও সিন্ডিকেট ভাঙার বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কিছু রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে অতিরিক্ত খরচ আদায় ও প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে অভিবাসন ব্যয় কমানো এবং প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও সহজ করতে অটোমেশন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

নারী কর্মীদের জন্য বিশেষ সুবিধার কথাও উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, নারীদের জন্য প্রশিক্ষণ, নিরাপদ আবাসন (হোস্টেল) এবং কর্মক্ষেত্রে হয়রানি প্রতিরোধে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে এসব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন তিনি।

দেশের অভ্যন্তরীণ কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর খাত ও নতুন শিল্পে তরুণদের যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের স্বাবলম্বী করে তোলার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রশাসনিক জটিলতা কমিয়ে দ্রুত সেবা প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে গণমাধ্যমকে “রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ” হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেকোনো অনিয়ম ও দুর্নীতি তুলে ধরতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সবশেষে তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করাই এখন তার প্রধান লক্ষ্য। কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, প্রবাসী কল্যাণ নিশ্চিতকরণ এবং স্বচ্ছ প্রশাসনের মাধ্যমে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।