প্রবাস

সার্ক পুনরুজ্জীবন, প্রবাসী সুরক্ষা ও কর্মসংস্থান সম্প্রসারণে জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ: শামা ওবায়েদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

‘সার্ক’, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ব্রেইন চাইল্ড। তাঁর উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই প্ল্যাটফর্মের একটি পূর্ণাঙ্গ কাঠামো থাকা সত্ত্বেও গত প্রায় ১৭ বছর তা কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। ফলে আঞ্চলিক সহযোগিতার অনেক সম্ভাবনা অপূর্ণ থেকে গেছে।

বেসরকারি টেলিভিশন ‘চ্যানেল আই’- এর জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘ভিন্নমতে সহমত’- এ দেওয়া সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্র নীতির বিভিন্ন উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, শামা ওবায়েদ ইসলাম।

সাক্ষাৎকারে তিনি দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে, "সাউথ এশিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর রিজিওনাল কো-অপারেশন" (সার্ক) পুনরুজ্জীবনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হবে সার্ককে সক্রিয় করে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য, সংস্কৃতি, ক্রীড়া এবং মানুষে-মানুষে যোগাযোগ আরও জোরদার করা।

এছাড়া, ক্রমবর্ধমান রোহিঙ্গা সংকট- কে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন এবং বাংলাদেশ সে লক্ষ্যেই কাজ করছে।

বিদেশে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দক্ষ ও স্বল্পদক্ষ জনশক্তির বিদেশগমনে যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, সেগুলো দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টি এবং বিদ্যমান বাজার সম্প্রসারণের চেষ্টা চলছে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের উপস্থিতি জোরদারে কালচারাল ও স্পোর্টস ডিপ্লোমেসি শক্তিশালী করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এর মাধ্যমে দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সম্পর্ক উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে বিদেশে অবস্থিত মিশনগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এসব মিশনকে আরও কার্যকর ও সেবামুখী করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে প্রবাসীরা বিপদে-আপদে দ্রুত সহায়তা পান।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনগুলো ২৪ ঘণ্টা কাজ করে যাচ্ছে, যাতে সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনরুদ্ধার এবং ভোটাধিকার ফিরে আসার ফলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ইতিবাচকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে, যা ভবিষ্যতে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।