স্বাস্থ্য

আবহাওয়ার বৈচিত্র্যে বাড়ছে হান্তাভাইরাস ঝুঁকি, সতর্ক করছে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো

নিজস্ব প্রতিবেদক

আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে হান্তাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকির একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা ও খরার মতো আবহাওয়াগত উপাদান ইঁদুরের সংখ্যা ও আচরণে প্রভাব ফেলে, আর এর মাধ্যমেই বাড়ে হান্তাভাইরাস-এর সংক্রমণ ঝুঁকি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা -এর তথ্যমতে, হান্তাভাইরাস মূলত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মল, প্রস্রাব ও লালার মাধ্যমে পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে। দূষিত বাতাস শ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করলে মানুষ আক্রান্ত হতে পারে।

বৃষ্টিপাত ও ইঁদুরের বিস্তার

বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হলে উদ্ভিদ ও খাদ্যের প্রাপ্যতা বাড়ে, যা ইঁদুরের দ্রুত বংশবিস্তার ঘটায়। গবেষণায় দেখা গেছে, এল নিনো (El Niño) প্রভাবিত বছরে দক্ষিণ ও উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলে হান্তাভাইরাস সংক্রমণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

তাপমাত্রার প্রভাব

মৃদু শীত ও উষ্ণ আবহাওয়া ইঁদুরের বেঁচে থাকার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে ইঁদুর সক্রিয় থাকে এবং মানুষের সঙ্গে সংস্পর্শের সম্ভাবনা বাড়ে। বিপরীতে, তীব্র শীত ইঁদুরের সংখ্যা কমিয়ে সংক্রমণ ঝুঁকি হ্রাস করতে পারে।

খরায় বাড়ে মানুষের সংস্পর্শ

খরার সময় খাদ্য ও পানির অভাবে ইঁদুর মানুষের বসতবাড়িতে ঢুকে পড়ে। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে বলে সতর্ক করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে গ্রামীণ ও আধা-নগর এলাকায় এই ঝুঁকি বেশি।

মৌসুমি প্রবণতা

সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন -এর তথ্য অনুযায়ী, বসন্ত ও গ্রীষ্মকালে অনেক দেশে হান্তাভাইরাস সংক্রমণের হার বৃদ্ধি পায়। এ সময় ইঁদুরের কার্যক্রম বেশি থাকে এবং তারা বেশি চলাচল করে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশে হান্তাভাইরাস সংক্রমণের বড় ধরনের প্রাদুর্ভাবের তথ্য খুব বেশি না থাকলেও, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে অস্বাভাবিক বৃষ্টি, তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও মৌসুমি বৈচিত্র্য ভবিষ্যতে ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ইঁদুর নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এ ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

প্রতিরোধে করণীয়

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ঘরবাড়ি পরিষ্কার রাখা, খাদ্য সুরক্ষিতভাবে সংরক্ষণ, এবং ইঁদুর প্রবেশের পথ বন্ধ রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করার সময় মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।