শীত এলেই আমরা অসুস্থতা এড়াতে কিছু অভ্যাস গড়ে তুলি, গরম কাপড় পরা, গোসল কমানো কিংবা নির্দিষ্ট কিছু খাবার এড়িয়ে চলা। কিন্তু এসব অভ্যাসের অনেকগুলোই বাস্তবে স্বাস্থ্য রক্ষার বদলে অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। একজন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ হিসেবে বলা যায়, শীতে রোগ হয় শুধু ঠান্ডায় নয়, বরং ভুল ধারণা ও ভুল অভ্যাসের কারণেও। এই লেখায় শীতকালীন সাধারণ কিছু ভ্রান্ত ধারণা ও তার স্বাস্থ্যঝুঁকি তুলে ধরা হলো।
ভ্রান্ত ধারণা
“যত বেশি গরম কাপড়, তত বেশি সুরক্ষা।”
বাস্তবতা
অতিরিক্ত বা ভুলভাবে গরম কাপড় পরলে শরীরে ঘাম জমে। পরে সেই ঘাম ঠান্ডা হয়ে-
সর্দি-কাশি
জ্বর
ত্বকের সংক্রমণ
বাড়াতে পারে।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ
স্তরভিত্তিক (Layering) পোশাক পরুন
শরীর ভিজে গেলে সঙ্গে সঙ্গে কাপড় বদলান
মাথা, ঘাড় ও পা ঢেকে রাখা জরুরি, কিন্তু শ্বাস নিতে কষ্ট হয় এমন পোশাক এড়িয়ে চলুন
ভ্রান্ত ধারণা
“শীতে গোসল করলে ঠান্ডা লাগে, তাই কম গোসল করাই ভালো।”
বাস্তবতা
অপরিচ্ছন্ন ত্বকে জীবাণু সহজে জন্মায়। কম গোসলের ফলে-
ত্বকের সংক্রমণ
ফাঙ্গাল রোগ
চুলকানি ও দুর্গন্ধ
বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ
কুসুম গরম পানিতে গোসল করুন
দ্রুত গোসল সেরে শরীর ভালোভাবে শুকিয়ে নিন
ঠান্ডা পানি একেবারে নিষিদ্ধ নয়, তবে দীর্ঘ সময় এড়িয়ে চলা ভালো
ভ্রান্ত ধারণা
“শীতে যেকোনো ভারী ও তেলঝাল খাবারই শক্তি দেয়।”
বাস্তবতা
অতিরিক্ত তেল-ঝাল ও ভাজাপোড়া-
হজমের সমস্যা
গ্যাস্ট্রিক
ওজন বৃদ্ধি
হৃদ্রোগের ঝুঁকি
বাড়ায়।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ
সুষম খাদ্য বজায় রাখুন
শাকসবজি, ফল ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খান
ভিটামিন সি ও জিঙ্কসমৃদ্ধ খাবার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
শীতে তৃষ্ণা কম লাগে বলে অনেকেই পানি কম পান করেন। এতে-
ডিহাইড্রেশন
কোষ্ঠকাঠিন্য
ত্বক শুষ্ক হওয়া
সহ নানা সমস্যা দেখা দেয়।
পরামর্শ
দিনে নির্দিষ্ট বিরতিতে পানি পান করুন, তৃষ্ণা না পেলেও।
গ্রাম ও শহরের নিম্নআয়ের মানুষদের মধ্যে আগুন পোহানো সাধারণ অভ্যাস।
ঝুঁকি
ধোঁয়াজনিত শ্বাসকষ্ট
চোখ ও ফুসফুসের ক্ষতি
শিশু ও বয়স্কদের নিউমোনিয়ার ঝুঁকি
শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে ভুল অভ্যাস বেশি বিপজ্জনক
শিশুদের অতিরিক্ত মোটা কাপড়ে জড়িয়ে রাখা
বয়স্কদের গোসল বা হাঁটাচলা বন্ধ করে দেওয়া
এই অভ্যাসগুলো শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করে।
শীতকালীন অসুস্থতার বড় অংশই প্রতিরোধযোগ্য। সঠিক তথ্য জানা ও ভ্রান্ত ধারণা ত্যাগ করলেই শীতকাল অনেক বেশি নিরাপদ ও সুস্থভাবে কাটানো সম্ভব।
ঠান্ডা আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই, কিন্তু আমাদের অভ্যাস আছে। শীতে সুস্থ থাকতে হলে ভয় নয়, চাই সচেতনতা, ভারসাম্য ও বিজ্ঞানভিত্তিক অভ্যাস। গরম কাপড়, গোসল ও খাদ্যাভ্যাসে সামান্য পরিবর্তনই পারে বড় ধরনের অসুস্থতা ঠেকাতে।