আন্তর্জাতিক

খামেনি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন জোরদারের আহ্বান যুবরাজ রেজার

নিজস্ব প্রতিবেদক

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নেতৃত্বাধীন সরকারকে চূড়ান্তভাবে দুর্বল করতে দেশটির অর্থনৈতিক কাঠামোয় আঘাত হানার আহ্বান জানিয়েছেন নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি।

ইরানের নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি দেশটির চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলন আরও তীব্র করার আহ্বান জানিয়ে শনিবার (১০ ডিসেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলেন, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শাসনের বিরুদ্ধে লড়াইকে নতুন পর্যায়ে নিতে হলে শহরের কেন্দ্র দখল করে সরকারকে কার্যত “অচল” করে দিতে হবে।

রেজা পাহলভি বলেন,

“আমাদের লক্ষ্য আর কেবল রাস্তায় নেমে আসা নয়। লক্ষ্য হলো শহরগুলোর কেন্দ্র দখল করে তাদের আটকে রাখার প্রস্তুতি নেওয়া এবং শাসকগোষ্ঠীর আর্থিক জীবনরেখা কেটে দেওয়া।”

নির্দিষ্ট সময় ও কর্মসূচির ডাক

পোস্টে তিনি বিক্ষোভকারীদের প্রতি আহ্বান জানান, শনিবার ও রবিবার (১০ ও ১১ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা থেকে জাতীয় পতাকা, ঐতিহাসিক ছবি ও জাতীয় প্রতীক নিয়ে জনসাধারণের স্থানে সমবেত হতে। তার ভাষায়, “এই স্থানগুলো আমাদের—জনগণের।”

তিনি দাবি করেন, অর্থনৈতিক অবাধ্যতা এবং সংগঠিত নাগরিক প্রতিরোধের মাধ্যমে “ইসলামী প্রজাতন্ত্র এবং এর জীর্ণ ও ভঙ্গুর দমন-পীড়ন যন্ত্রকে নতজানু করা সম্ভব।”

অর্থনৈতিক সংকট ও বিক্ষোভের পটভূমি

ইরানে সাম্প্রতিক সময়ে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, তীব্র মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে জনমনে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এই ক্ষোভ থেকেই রাজধানী তেহরানের বাজার এলাকায় ছোট ছোট বিক্ষোভ শুরু হয়, যা এখন টানা ১৩তম দিনে গড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রায় সম্পূর্ণ ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট সত্ত্বেও আন্দোলনের ধারাবাহিকতা সরকারবিরোধী ক্ষোভের গভীরতাই তুলে ধরে।

সরকারের জন্য বাড়তি চাপ?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, পাহলভির আহ্বান প্রতীকী হলেও এটি আন্দোলনকারীদের মনোবল বাড়াতে পারে। বিশেষ করে যদি বিক্ষোভ শহরের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্র, বাজার ও শিল্পাঞ্চলে বিস্তৃত হয়, তাহলে সরকারের ওপর চাপ বহুগুণে বাড়তে পারে।

তবে একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেছেন, নিরাপত্তা বাহিনীর শক্ত অবস্থান এবং অতীত অভিজ্ঞতার কারণে পরিস্থিতি আরও সহিংস রূপ নেওয়ার ঝুঁকিও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

সামনে কী?

ইরানের অভ্যন্তরীণ আন্দোলন এখন এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। অর্থনৈতিক সংকট, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং রাজনৈতিক দমননীতির মধ্যে এই বিক্ষোভ কতটা সংগঠিত ও দীর্ঘস্থায়ী হয়—সেটিই নির্ধারণ করবে খামেনি সরকারের জন্য ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জের মাত্রা।