বিশ্ব রাজনীতিতে সাম্প্রতিক উত্তেজনা নতুন করে প্রশ্ন তুলছে—ইউরোপ ও আমেরিকাকে কেন্দ্র করে কি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে যাচ্ছে বিশ্ব? ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান–ইসরায়েল উত্তেজনা, যুক্তরাষ্ট্র–চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং ন্যাটো বনাম রাশিয়ার শক্তি প্রদর্শন—সব মিলিয়ে বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি নাজুক হয়ে উঠেছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউক্রেন যুদ্ধ, ট্রান্স-আটলান্টিক সম্পর্কের চাপ, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও বাণিজ্য দ্বন্দ্বের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভবিষ্যতে বড় কোনো গ্লোবাল সংঘাতের সম্ভাবনা সম্পর্কে উদ্বেগ দেখা দেয়।
ব্রিটিশ গবেষণা সংস্থা YouGov-এর একটি সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের প্রায় ৪১% থেকে ৫৫% পর্যন্ত অংশ মনে করেন আগামী ৫-১০ বছরে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার সুযোগ “উচ্চ” বা “যথেষ্ট” রয়েছে। বিপজ্জনক বিষয় হলো, জরিপে অংশ নেওয়া বড় অংশই বিশ্বাস করেন যে ভবিষ্যতের এই সংঘাত পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা সহ সমগ্র বিশ্বকে গুরুতর ঝুঁকিতে ফেলবে।
বিশ্ব রাজনীতিতে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সম্ভাবনা নিয়ে সরল ভবিষ্যদ্বাণী না হলেও, কয়েকটি বড় ইস্যু বর্তমান পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক করে তুলেছে:
- ইউক্রেন যুদ্ধ: রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত দীর্ঘায়িত হয়ে ইউরোপের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে চাপের মুখে ফেলেছে এবং ন্যাটো-রাশিয়া প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে তীব্র করেছে।
- ট্রান্স-আটলান্টিক সম্পর্কের টানাপোড়েন: যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে রাজনীতি ও বাণিজ্য ইস্যুতে মতভেদ গঠিত হচ্ছে—বিশেষ করে নর্থ আটলান্টিক চুক্তি সংস্থা (NATO) এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা অঙ্গনে।
- মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনা: ইরান, ইসরায়েল ও অন্যান্য অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়ছে, যা বড় রাষ্ট্রীয় সংঘাতে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে বিশ্ব নেতাদের সতর্ক করছে।
এ ধরনের সংঘাত বিশ্বব্যাপী ঘাঁটি ও মিত্র দেশগুলোকেও জড়িয়ে দিতে পারে।
বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, ২০২৬ এমন একটি বছর হতে পারে যখন বড় শক্তিগুলোর মধ্যকার spheres-of-influence (প্রভাব ক্ষেত্র) আরও দৃঢ় হবে, এবং ভুল হিসাব বা সংঘাত উত্তাপ দ্রুত বড় যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে। বিশেষ করে একটি বড় শক্তি যখন অন্যটির সীমানায় চাপ সৃষ্টি করে, তখন ছোট সংঘাত দ্রুত বিস্তারিত যুদ্ধের ঝামেলা পর্যন্ত বাড়তে পারে—যা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঝুঁকি বাড়ায়।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) সতর্ক করেছে کہ যুক্তরাষ্ট্র-ইইউর মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা এবং শুল্কের ধাক্কা বিশ্ব অর্থনীতিতে এস্কালেশন স্পাইরাল সৃষ্টি করতে পারে, যার প্রভাব শুধুই অর্থনৈতিক নয়—এটি রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্কেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে সম্পূর্ণ অর্থে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সম্ভাবনা কম, কারণ—
- পারমাণবিক ক্ষুধা ও ধ্বংসের ভয় কেবল বড় রাষ্ট্রগুলোকেই restraint দেয়
- বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক আন্তনির্ভরতা বড় যুদ্ধের পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তা বাড়ায়
- আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান এবং কূটনৈতিক চ্যানেল এখনও কার্যকর
তবে তর্ক হলো—যদি একাধিক সংঘাত একসঙ্গে সৃষ্টি হয় (যেমন: অর্থনৈতিক বাণিজ্য যুদ্ধ + সামরিক উত্তেজনা + ভূরাজনৈতিক বিভাজন), তাহলে কোনো ভুল সিদ্ধান্ত বা দুর্ঘটনা বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
যেমন জরিপ দেখায় অনেক মানুষ ভবিষ্যতে এমন একটা পরিস্থিতি ভয় করছে, যেখানে বড় শক্তির মধ্যে সংঘাত আবার বিশ্বব্যাপী ধারায় ঢোকে—তবে সেটি কখন, কোথায় এবং কোন মেজাজে হবে তা নির্ধারণ করা কঠিন।
- জনমত: ইউরোপ ও আমেরিকায় অনেকেই ভাবছেন বিশ্বযুদ্ধের ঝুঁকি বাড়ছে।
- আন্তর্জাতিক রাজনীতি: ইউক্রেন যুদ্ধ, পশ্চিমা সম্পর্কের ভঙ্গুরতা ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বড় ভূমিকা রাখছে।
- অর্থনীতি ও বাণিজ্য: বাণিজ্য উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতিতে ঝুঁকি তৈরি করছে।
- বিশেষজ্ঞ পর্যালোচনা: তীব্র যুদ্ধের সম্ভাবনা কম হলেও ঝুঁকি বাড়ছে, এবং কূটনৈতিক সমাধানই এখন মুখ্য।