যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্ভাব্যভাবে ইরানের ওপর বড় সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছেন, এমন তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও কূটনৈতিক সূত্র। সূত্রগুলোতে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে পরমাণু কর্মসূচি ও মিসাইল উৎপাদন নিয়ে আলোচনার প্রাথমিক পর্যায় ব্যর্থ হওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে সামরিক বিকল্প হিসেবে অভিযান নিয়ে ভাবনা নেই এমন না।
বিশ্বমাধ্যম টাইমস অফ ইন্ডিয়াসহ আন্তর্জাতিক রিপোর্টগুলি জানাচ্ছে, ইরানের নিকটবর্তী এলাকায় বিশাল যুক্তরাষ্ট্রীয় নৌবহর ও সামরিক ক্ষমতা মোতায়েন করা হয়েছে। এতে ওয়াশিংটন যুদ্ধ প্রস্তুতি আরও জোরদার করেছে—যা ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা তীব্র করে তুলেছে।
ত্রাণ, তেল ও ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্বের কারণে ইরান একটি সংঘর্ষের কেন্দ্রে অবস্থান করছে, এবং ট্রাম্প প্রশাসন এটিকে কড়া অবস্থানের মাধ্যমে মোকাবিলা করার চিন্তা করছে।
ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও গুরুত্বপূর্ণ মিসাইল উৎপাদন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে আনতে একটি নতুন নিরাপত্তা ও আলোচনা প্রক্রিয়া শুরু করতে চেয়েছিল। কিন্তু সূত্রগুলো বলছে প্রথম পর্যায়ের আলোচনাগুলো “উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ছাড়া” শেষ হয়েছে, ফলে সেনা ও কৌশলগত বিকল্পগুলো পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
এর অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ইতিপূর্বে ইরানে হামলার পরিকল্পনা অনুমোদন করার খবরও এসেছে, যেখানে ফোর্দো পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র হামলার সম্ভাবনা বিবেচনা করা হয়েছিল—যদিও তখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
ট্রাম্প প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রীয় নৌবাহিনীর একটি বড় বাহিনী, যার নেতৃত্বে USS Abraham Lincoln বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করেছে। এটি ইরানের নিকটবর্তী অঞ্চলে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত সামরিক উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।
ট্রাম্প বিভিন্ন বার্তা ও হুঁশিয়ারিতে বলেছেন যে, “সময় কমে আসছে” এবং ইরান যদি তৎপরতা দেখায় না বা পারমাণবিক আলোচনায় আসতে অস্বীকৃতি জানায় তবে পরবর্তী হামলা আগের চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে—এমনও ইঙ্গিত দিয়েছেন।
ইরানও ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি কোনওভাবে পাত্তা দিচ্ছে না বলে অভিমত প্রকাশ করা হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সরাসরি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি হামলা চালায়, তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া দেওয়া হবে বলে তারা ঘোষণা করেছে।
এছাড়া, ইরান ইতিমধ্যেই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও যুদ্ধ প্রস্তুতি বাড়িয়েছে, যা ইঙ্গিত দেয় তারা পরিস্থিতি কঠোরভাবে মোকাবিলা করতে প্রস্তুত।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, শুধুমাত্র সামরিক উপস্থিতি বা হুঁশিয়ারির ওপর ভিত্তি করে সংঘর্ষ অনিবার্য—এমন নিশ্চয়তা নেই। অনেক পশ্চিম এশিয়ার দেশ — যেমন তুরস্ক, সৌদি আরব, কাতার ও ওমান — ইতোমধ্যেই ট্রাম্পকে হামলা থেকে বিরত থাকার সতর্কবার্তা দিয়েছেন, কারণ একটি বৈশ্বিক বা আঞ্চলিক যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধের সম্ভাবনা কেবল সামরিক বিকল্পে সীমাবদ্ধ নয়; কূটনৈতিক চাপ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতা এখনো মূল উপাদান হিসেবে কাজ করছে।
বর্তমান পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে—ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর সামরিক চাপ বাড়াচ্ছে এবং আলোচনার ব্যর্থতায় সামরিক বিকল্পগুলো মূল্যায়ন করছে, বিশেষ করে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে।
অন্যদিকে, ইরানও তৎপরতার মোকাবিলা করতে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে।
যদিও বর্তমান পরিস্থিতি সংকটাপন্ন, তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নির্দিষ্ট সামরিক অভিযান শুরু হয়েছে—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। কূটনীতি, আন্তর্জাতিক চাপ ও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিরোধিতার কারণগুলো সম্ভবত সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি কমাতে কাজ করবে, তবু পরিস্থিতি এখনও শিথিল নয়।