আন্তর্জাতিক

ওয়াল স্ট্রিটে এআই বিনিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় মাইক্রোসফট শেয়ারের দাম কমেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি শেয়ারগুলো যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নেতৃত্বাধীন বৃদ্ধি ও বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতিতে ইতিহাসিক উচ্চতায় পৌঁছেছিল, তখন ওয়াল স্ট্রিটে এআই-সম্পর্কিত বিনিয়োগের স্থায়িত্ব ও লাভজনকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, যার ফলে মাইক্রোসফট (Microsoft) এর শেয়ারদামে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে

শেয়ারের চলাচল ও বাজারের প্রতিক্রিয়া

গত ২৯ জানুয়ারি NASDAQ-এ মাইক্রোসফটের শেয়ার প্রায় 10% পড়ে, যা কোম্পানির জন্য এই দশকেই সবচেয়ে বড় একদিনের পতনগুলোর মধ্যে একটি ছিল। একই দিনের স্টক মার্কেটের প্রভাব হিসেবে সফটওয়্যার খাতের অন্যান্য শেয়ারগুলোও নীচে নামতে দেখা গেছে এবং সামগ্রিক বাজার সূচক নাসডাক 0.7% নেমে এসেছে।

এই পতনের পেছনে সরাসরি এআই সংক্রান্ত বিনিয়োগ ও ব্যয়ের পরিমাণ, পাশাপাশি সম্ভাব্য মুনাফা সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের সংশয় একটি বড় ভূমিকা পালন করেছে। মাইক্রোসফটের রেকর্ড-ধরনের এআই পরিকাঠামোতে খরচ (capital expenditure) গত এক সেশনে প্রায় 66% বৃদ্ধি পেয়েছে $37.5 বিলিয়ন পর্যন্ত — যা বাজারে উদ্বেগ তৈরি করেছে যে এত ব্যয় স্বল্পমেয়াদে লাভে রূপান্তরিত হবে কি না।

এআই বিনিয়োগ নিয়ে উদ্বেগ

বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এআই-সম্পর্কিত ব্যয়ের ব্যাপারে কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে:

  • AI-centric ব্যয় বৃদ্ধি: মাইক্রোসফট সহ বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলো এআই সার্ভিস ও ডেটা সেন্টারে বিপুল বিনিয়োগ করছে, যা সংস্থার লাভের স্বল্পমেয়াদি দিককে চাপ দিচ্ছে।

  • মুনাফা ও রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট (ROI): বাজারে এমন সন্দেহ বৃদ্ধি পেয়েছে যে এত বড় এআই ব্যয় কত দ্রুত বা কত বেশি লাভজনক হবে তা এখনও পরিষ্কার নয়।

  • এআই বুদবুদ (AI Bubble)-এর সম্ভাবনা: কিছু বিশ্লেষক এটিকে একটি সম্ভাব্য “এআই বুদবুদ” বলেও উল্লেখ করেছেন, যেখানে মূলধারা বিনিয়োগ স্থায়ী আর্থিক লাভের পরিবর্তে শুধু সম্ভাব্য ভবিষ্যতের উপর ভিত্তি করে মূল্যায়ন হচ্ছে।

কোম্পানির আর্থিক ফলাফল

মাইক্রোসফটের নতুন কর্পোরেট ফলাফল রিপোর্টে দেখা গেছে রেভিনিউ ও আয় অনুমান কে পেরিয়ে গেছে, কিন্তু Azure ক্লাউডের বৃদ্ধি সামান্য ঘাটতি দেখিয়েছে, যা বিশেষ করে এআই-সহায়ক ক্লাউড সার্ভিসগুলোর উচ্চ খরচের কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সংশয় তৈরি করেছে।

বিভিন্ন বিশ্লেষক মনে করেন, সংস্থার ভবিষ্যৎ এআই-নির্ভর পণ্যগুলোর বাজার-ভিত্তিক গ্রহণযোগ্যতা এবং আর্থিক রিটার্নই আগামী কয়েক মাসে শেয়ার মূল্য নির্ধারণে মূল ভূমিকা রাখবে।

সমগ্র বাজারে ধসের প্রভাব

মাইক্রোসফটের শেয়ার পতনের প্রভাব কেবল এটিই নয়; নাসডাকসহ বৃহত্তর প্রযুক্তি সেক্টরে উদ্বেগের দোলাচলে বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। Meta-এর মতো অন্যান্য প্রযুক্তি শেয়ার কিছুটা শক্ত অবস্থানে থাকলেও, প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগকারীদের মনোভাব বেশ সতর্ক হয়ে উঠেছে।

আর্থিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরণের পতন শুধু একটি কোম্পানির সমস্যাই নয়, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বিনিয়োগের নতুন বিশ্লেষণ পর্যায়ে প্রবেশ করার সংকেত হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে: বাজারে এখন “এআই কি বাস্তবে লাভজনক ও টেকসই?”—এই প্রশ্নটি প্রধান হয়ে উঠেছে।

সারসংক্ষেপ: কেন শেয়ার পতন?

- মাইক্রোসফটের শেয়ার গত একদিনে প্রায় 10% পতন — NASDAQ-এর সবচেয়ে বড় নেমে যাওয়া প্রযুক্তি শেয়ারের মধ্যে একটি।
- সংস্থার AI-সম্পর্কিত ব্যয়ের দ্রুত বৃদ্ধি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সংশয় তৈরি করেছে।
- এআই ব্যয়ের রিটার্ন অন বিনিয়েস্টমেন্ট এবং লাভজনকতার অনিশ্চয়তা শেয়ার মূল্যকে চাপাচ্ছে।
- বাজারের উদ্বেগ কেবল মাইক্রোসফটেই সীমাবদ্ধ নয়—সমগ্র AI-ভিত্তিক প্রযুক্তি সেক্টরে বিনিয়োগকারীদের মনোভাবকে প্রভাবিত করছে।