ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই নতুন সমঝোতার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ‘খুব ভালো আলোচনা’ হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, চলমান সংঘাত ‘খুব দ্রুত শেষ হবে’। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি হতে পারে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা চলছে, যা ভবিষ্যৎ পারমাণবিক চুক্তির ভিত্তি হতে পারে। প্রস্তাবে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত, নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তবে ইরানের পার্লামেন্টের এক জ্যেষ্ঠ সদস্য এই প্রস্তাবকে ‘আমেরিকার ইচ্ছার তালিকা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। একই সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রস্তাবটি এখনো পর্যালোচনায় রয়েছে এবং পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তাদের মতামত জানানো হবে।
এদিকে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, চুক্তি না হলে আবারও বড় ধরনের হামলা শুরু হতে পারে। অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ‘পূর্ণ সমন্বয়’ রয়েছে।
১৪ দফার সমঝোতা স্মারক-
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি এক পৃষ্ঠার ১৪ দফার একটি স্মারক, যা ভবিষ্যতের আরও বিস্তারিত পারমাণবিক আলোচনার কাঠামো নির্ধারণ করতে পারে।
প্রস্তাবিত বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে- ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম স্থগিত করা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা।
প্রতিবেদনটি দুই মার্কিন কর্মকর্তা ও আরও দুইটি সূত্রের বরাতে প্রকাশ করা হয়েছে, যদিও তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুইটি সূত্র অ্যাক্সিওসের তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। তবে প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
সূত্র: অ্যাক্সিওস