ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, হরমুজ প্রণালীকে ‘উন্মুক্ত, নিরাপদ ও অবাধ’ রাখা ভারতের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলাই এ ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আবুধাবি থেকে এএফপি জানায়, মোদি শুক্রবার সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরের মাধ্যমে ইউরোপ ও পশ্চিম এশিয়ায় পাঁচ দেশ সফর শুরু করেছেন। আবুধাবিতে সংক্ষিপ্ত সফরকালে তিনি একথা বলেন।
মোদির সফরটি মূলত জ্বালানি নিরাপত্তা ও সরবরাহ শৃঙ্খল উদ্বেগের মধ্যে শুরু হলো, যা ইরান যুদ্ধের কারণে আরও তীব্র হয়েছে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল ও গ্যাস পরিবহনে বিঘœ ঘটায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে ভারতের ওপরও। দেশটি শুক্রবার পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়।
ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল ক্রেতা এবং সাধারণত তাদের তেলের প্রায় অর্ধেকই হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে আমদানি করে, যা ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রায় বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
আবুধাবিতে সংক্ষিপ্ত সফরে মোদি বলেন, ‘আমি আমার দ্বিতীয় বাড়িতে এসেছি।’
তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং পরে নেদারল্যান্ডসের উদ্দেশে রওনা হন।
সফরের সময় তার বিমানকে আমিরাতের আকাশসীমায় সামরিক জেট দিয়ে এসকর্ট করা হয়, যা তিনি ‘সম্মান’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে আবুধাবির রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি এডিএনওসি’র তেল সংরক্ষণ ক্ষমতা ভারতে ৩০ মিলিয়ন ব্যারেল পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে ভারতের কৌশলগত রিজার্ভ ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ফুজাইরাহ বন্দরে অপরিশোধিত তেল সংরক্ষণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রন্ধীর জয়সওয়াল এক্সে পোস্ট করে বলেছেন, এই সফর ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় ধরনের অগ্রগতি আনবে।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সফর ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও গভীর করার লক্ষ্যেও গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে জানুয়ারিতে স্বাক্ষরিত ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পর।
মোদি নেদারল্যান্ডসে ২৭.৮ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, সেমিকন্ডাক্টর, পানি, কৃষি ও স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করবেন।
এরপর তিনি সুইডেনে ইউরোপীয় ব্যবসায়ীদের ফোরামে বক্তব্য রাখবেন এবং নরওয়েতে ভারত-নর্ডিক শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেবেন। এটি ৪৩ বছরে কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম নরওয়ে সফর।
ভারত আর্কটিক গবেষণা কেন্দ্র পরিচালনা করছে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নতুন আর্কটিক সমুদ্রপথ খোলার বিষয়টিও নজরে রাখছে।
সফরের শেষ ধাপে মোদি ১৯ মে ইতালি সফর করবেন এবং প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে বৈঠক করবেন।