মিসরজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য পিরামিড, যার মধ্যে গ্রেট পিরামিড অব গিজা অন্যতম। পিরামিডটি কীভাবে তৈরি করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রত্নতাত্ত্বিকদের মধ্যে কয়েক দশক ধরে বিতর্ক চলছে। বিতর্কের অন্যতম কারণ হচ্ছে, পিরামিডটি তৈরির সময় বিশাল পাথর কীভাবে উঁচুতে তোলা হয়েছে, তার কোনো প্রাচীন দলিল বা প্রমাণ নেই। প্রথাগত তত্ত্বে বাইরের দিকের র্যাম্প বা ঢালু পথ ব্যবহারের কথা বলা হলেও ২০ বছরের মধ্যে ৬০ টন ওজনের পাথর শত শত ফুট উঁচুতে তোলা বেশ কঠিন। তবে সম্প্রতি নেচার সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় ভিন্ন তথ্য প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ওয়েইল কর্নেল মেডিসিন অব ইউএসএর বিজ্ঞানী সাইমন আন্দ্রেয়াস শুরিং।
সাইমন আন্দ্রেয়াস শুরিংয়ের মতে, গিজা পিরামিড তৈরি করা হয়েছে ভেতর থেকে। এ জন্য কাউন্টারওয়েট বা বিপরীত ওজন এবং পুলি-সদৃশ যান্ত্রিক ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে। প্রাচীন সময়ের এই পদ্ধতিতে প্রতি মিনিটে একটি করে বিশাল পাথর স্থাপন করা সম্ভব ছিল। পিরামিডের ভেতরে থাকা গ্র্যান্ড গ্যালারি ও অ্যাসেন্ডিং প্যাসেজ আসলে ঢালু র্যাম্প হিসেবে ব্যবহৃত হতো। সেখান থেকে ভারী ওজন নিচে ফেলে অন্য প্রান্তের পাথর ওপরে তোলা হতো। গ্র্যান্ড গ্যালারির দেয়ালে থাকা আঁচড় ও ঘর্ষণের চিহ্ন এই যান্ত্রিক ব্যবহারের প্রমাণ দেয়।
পিরামিডের অ্যান্টিচেম্বার অংশটিকে এত দিন নিরাপত্তার কাজে ব্যবহৃত ঘর মনে করা হতো। তবে নতুন গবেষণায় একে একটি পুলি স্টেশন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর গ্রানাইট দেয়ালে থাকা খাঁজ ও কাঠের বিম বসানোর চিহ্নগুলো ৬০ টন ওজনের পাথর উত্তোলনের যান্ত্রিক ব্যবস্থার দিকে ইঙ্গিত করে। এটি অনেকটা গিয়ার পরিবর্তনের মতো উত্তোলনের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করতে পারত। গবেষণায় দেখা গেছে, পিরামিডের কক্ষগুলোর অবস্থান নিখুঁত কেন্দ্রে না থেকে কিছুটা সরে থাকা আসলে প্রকৌশলগত কারণে করা হয়েছে। বাইরের র্যাম্প দিয়ে নিচ থেকে তৈরি করলে কক্ষগুলো যেকোনো স্থানে বসানো যেত। অভ্যন্তরীণ উত্তোলনের সীমাবদ্ধতার কারণেই বিভিন্ন কক্ষ কিছুটা অপ্রতিসাম্য অবস্থায় রয়েছে।
নতুন তথ্য অনুযায়ী, পিরামিডের ভেতরে আর কোনো বড় গোপন কক্ষ থাকার সম্ভাবনা নেই। তবে বাইরের অংশে ছোট করিডর বা র্যাম্পের ধ্বংসাবশেষ থাকতে পারে। এই তত্ত্ব সঠিক হলে পিরামিড নির্মাণের ইতিহাস ও প্রাচীন মিসরীয়দের প্রকৌশলবিদ্যা সম্পর্কে মানুষের ধারণা পুরোপুরি বদলে যাবে।