মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট-এর দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা আবু-বিলাল আল-মিনুকি যুক্তরাষ্ট্র ও নাইজেরিয়ার যৌথ অভিযানে নিহত হয়েছেন।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
শুক্রবার (১৫ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, সাহসী মার্কিন বাহিনী এবং নাইজেরিয়ার সশস্ত্র বাহিনী অত্যন্ত সূক্ষ্ম পরিকল্পনা ও জটিল অভিযানের মাধ্যমে বিশ্বের সবচেয়ে সক্রিয় সন্ত্রাসীকে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সরিয়ে দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আইএসের বৈশ্বিক দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা আবু-বিলাল আল-মিনুকি ভেবেছিল আফ্রিকায় লুকিয়ে থাকতে পারবে। কিন্তু সে জানত না, আমাদের কাছে এমন তথ্যসূত্র ছিল যারা তার প্রতিটি কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আমাদের অবহিত করছিল।
অভিযানে সহযোগিতার জন্য নাইজেরিয়া সরকারকে ধন্যবাদ জানান ট্রাম্প। তবে অভিযানটি কোথায় বা কীভাবে পরিচালিত হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
২০২৩ সাল থেকেই আল-মিনুকি যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিলেন। আইএসের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে ‘বৈশ্বিক সন্ত্রাসী’ তালিকাভুক্ত করেছিল মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
সে সময় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছিল, আল-মিনুকি সাহেল অঞ্চলে আইএসের জ্যেষ্ঠ নেতা ছিলেন এবং সংগঠনটির ‘জেনারেল ডিরেক্টরেট অব প্রভিন্সেস’-এর সদস্য ছিলেন। এই প্রশাসনিক শাখা বিশ্বজুড়ে আইএসের বিভিন্ন শাখাকে পরিচালনাগত নির্দেশনা ও অর্থায়ন দিয়ে থাকে।
ট্রাম্প দাবি করেন, আল-মিনুকির নিহত হওয়ার মাধ্যমে আইএসের বৈশ্বিক কার্যক্রম বড় ধরনের দুর্বলতার মুখে পড়েছে। গত কয়েক মাস ধরে ট্রাম্প অভিযোগ করে আসছেন, নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে খ্রিস্টানদের ওপর সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলা ঠেকাতে দেশটি যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
তবে নাইজেরিয়া এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দেশটির দাবি, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো মুসলিম ও খ্রিস্টান উভয় সম্প্রদায়কেই লক্ষ্যবস্তু করছে। গত বছরের বড়দিনে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী সোকোটো রাজ্য-এ একটি বিমান হামলা চালায়। ওই হামলার লক্ষ্য ছিল সেখানে সক্রিয় আইএস যোদ্ধারা।
এরপর থেকে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কারিগরি সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্র নাইজেরিয়ায় শত শত সেনা মোতায়েন করেছে। তবে নাইজেরিয়া জানিয়েছে, মার্কিন সেনারা সেখানে সরাসরি যুদ্ধ নয়, কেবল সহায়ক ভূমিকায় কাজ করছে।