আন্তর্জাতিক

ইরানের সব ড্রোন ভূপাতিত করা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সম্ভব নাও হতে পারে

নিজস্ব প্রতিবেদক

ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলায় ছোড়া সব ড্রোন ভূপাতিত করা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সম্ভব নাও হতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা। গোপন ব্রিফিংয়ে আইনপ্রণেতাদের তারা জানিয়েছেন, অধিকাংশ ড্রোন প্রতিহত করা গেলেও পুরো হামলা ঠেকানো কঠিন হতে পারে। একই সঙ্গে যুদ্ধের ব্যয়, অস্ত্রের মজুত ও কৌশল নিয়ে ওয়াশিংটনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছেন, ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলায় ছোড়া সব ড্রোন ভূপাতিত করা তাদের পক্ষে সম্ভব নাও হতে পারে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই ব্যক্তি জানান, মঙ্গলবার এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে এ সতর্কবার্তা দেয়া হয়।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনের নেতৃত্বে কর্মকর্তারা বলেন, ইরান হাজার হাজার একমুখী আক্রমণাত্মক ড্রোন ব্যবহার করছে। এর বেশিরভাগ প্রতিহত করার সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের থাকলেও সবগুলো নামিয়ে আনা সম্ভব নাও হতে পারে।

এ কারণে ক্যাপিটল হিলে আইনপ্রণেতাদের জন্য আয়োজিত গোপন ব্রিফিংয়ে কর্মকর্তারা জানান, ড্রোন ও প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপণস্থল যত দ্রুত সম্ভব ধ্বংস করার দিকেই যুক্তরাষ্ট্র মনোযোগ দিচ্ছে। সংবেদনশীল তথ্য হওয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে একথা বলেন।

মূলত যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরান স্বল্পমূল্যের একমুখী আক্রমণাত্মক শাহেদ ড্রোন ব্যবহার করছে। নিচু দিয়ে ধীরগতিতে উড়তে পারায় এসব ড্রোন প্রচলিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় বেশি ফাঁকি দিতে পারে বলে মনে করা হয়।

এক জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের সবচেয়ে উন্নত প্যাট্রিয়ট ও থাড প্রতিরোধ ব্যবস্থা ব্যবহার করতে বাধ্য করাই ইরানের ড্রোন কৌশলের লক্ষ্য বলে মনে হচ্ছে। তবে তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন উপায়ে এসব ড্রোন ভূপাতিত করায় এই কৌশল সফল হয়নি।

তবু কংগ্রেসের শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্যরা উদ্বেগ জানিয়েছেন যে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যয় করছে। বিষয়টি নিয়ে কেইন নিজেও উদ্বেগের কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি। যদিও প্রকাশ্যে তিনি মজুত অস্ত্রের বিষয়ে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন।

এদিকে বুধবার পেন্টাগনে সংবাদ সম্মেলনে কেইন বলেন, ‘আক্রমণ ও প্রতিরক্ষা— দুই ক্ষেত্রেই আমাদের হাতে প্রয়োজনীয় নির্ভুল অস্ত্র পর্যাপ্ত রয়েছে’। তবে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

যুদ্ধের প্রথম কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্রের দৈনিক ব্যয় ছিল প্রায় ২০০ কোটি ডলার। প্রতিরক্ষা দপ্তরের প্রাথমিক বিশ্লেষণ সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তির মতে, এখন তা কমে দৈনিক প্রায় ১০০ কোটি ডলারের কাছাকাছি এসেছে এবং সংঘাত অব্যাহত থাকলে আরও কমতে পারে।

হোয়াইট হাউসের একজন মুখপাত্র তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেননি। আর অপারেশনাল নিরাপত্তার কারণে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের একজন মুখপাত্র মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।

এর আগে গত সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র অনির্দিষ্টকাল একই হারে হামলা চালাতে সক্ষম। তিনি বলেন, ‘মাঝারি ও উচ্চ-মাঝারি মানের’ অস্ত্রের মজুত ‘প্রায় সীমাহীন’। তবে তিনি স্বীকার করেন, ‘সর্বোচ্চ মানের’ অস্ত্রের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ‘আমাদের প্রত্যাশামতো নয়’।

এছাড়া বুধবার এক ব্রিফিংয়ে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চালানোর মতো যথেষ্ট অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে। তিনি দাবি করেন, ট্রাম্পের ওই পোস্টে মূলত বাইডেন প্রশাসনের ইউক্রেনে অস্ত্র পাঠানোর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করা হয়েছিল।

লেভিট বলেন, ‘বিশ্বের অনেকেই জানেন না— এমন জায়গাতেও আমাদের অস্ত্রের মজুত রয়েছে’। তিনি আরও বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট বোঝাতে চেয়েছেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে গত চার বছর হোয়াইট হাউসে এক অদক্ষ ও অযোগ্য নেতৃত্ব ছিল, যারা আমাদের অনেক সেরা অস্ত্র বিনা কারণে দিয়ে দিয়েছে।’

খবর -দ্য গার্ডিয়ান