আন্তর্জাতিক

গঠিত হয়েছে ‘গাজা শান্তি পর্ষদ’, চেয়ারম্যান ট্রাম্প

নিজস্ব প্রতিবেদক

দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই রিপাবলিকান নেতা ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজায় হামাস ও ইসরায়েলের সংঘাত বন্ধের উদ্যোগে আদাজল খেয়ে নেমে পড়েন। বিভিন্ন উদ্যোগ ব্যর্থ হলেও অবশেষে গত বছরের শেষের দিকে গাজায় যুদ্ধবিরতি চালু হয় এবং পরিস্থিতি কিছুটা হলেও স্থিতিশীল হয়।

এই স্থিতিশীলতাকে টিকিয়ে রাখার লক্ষ্য নিয়ে গাজা 'শান্তি পর্ষদ' গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প।

আজ শুক্রবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

ফিলিস্তিনে সংঘাত থামানোর টেকসই পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ দুই উপকরণের মধ্যে একটি হলো এই তথাকথিত 'বোর্ড অব পিস'।

বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প বলেন, 'বোর্ড অব পিস গঠিত হয়েছে। এটা জানাতে পেরে আমি অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করছি।'

ট্রাম্প জানান, এই বোর্ডের সদস্যদের নাম 'অবিলম্বে' জানানো হবে।

'আমি নিশ্চয়তা দিয়ে বলতে পারি, যেকোনো সময়কাল ও অবস্থান বিচারে এটাই সর্বশ্রেষ্ঠ ও সবচেয়ে মহান বোর্ড গঠনের ঘটনা', যোগ করেন ট্রাম্প।

ট্রাম্পের পোস্টের অল্প সময় আগে যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে গাজার দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ১৫ সদস্যের একটি ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট কমিটির ঘোষণা আসে।

ওই কমিটি শান্তি পর্ষদের তত্ত্বাবধানে কাজ করবে।

বৃহস্পতিবার ট্রাম্প জানান, তিনি নিজেই শান্তি পর্ষদের চেয়ারম্যানের ভূমিকায় থাকবেন। 

শান্তি পরিকল্পনায় গাজাকে সুরক্ষিত রাখতে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েনের কথা বলে হয়েছে। ওই বাহিনী ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীর 'যাচাইকৃত' সদস্যদের প্রশিক্ষণও দেবে।

তবে স্থিতিশীলতা বাহিনীতে কোন কোন দেশের সেনা থাকবে এবং কীভাবে পুলিশ সদস্যদের যাচাই করা হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য জানা যায়নি।

উল্লেখ্য, ইতোমধ্যে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান গাজায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর অংশ হতে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা নীতিগতভাবে ব্যক্ত করেছেন।

বৃহস্পতিবার হামাসের জ্যেষ্ঠ নেতা বাসেম নাঈম এক বিবৃতিতে বলেন, 'এই কমিটিকে শক্তিশালী করার দায়িত্ব এখন মধ্যস্থতাকারী, মার্কিন প্রতিনিধি ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হাতে। বল এখন তাদের কোর্টে।'

গত বছরের ১০ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত পরিকল্পনাটি প্রকাশ্যে আসে। ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে হামাসের হাতে আটক সকল জিম্মি একে একে মুক্তি পান। হামাসের হাতে থাকা মরদেহগুলোও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হয়। বিনিময়ে মুক্তি পান ইসরায়েলি কারাগারে আটক ফিলিস্তিনি নাগরিকরা।

হামাস-ইসরায়েলের সামরিক সংঘাত বন্ধের উদ্যোগের অংশ হিসেবে জিম্মি-বন্দী বিনিময় কার্যক্রম চলে। 

ওই পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চলছে। ত্রাণ স্বল্পতা ও সহিংসতা অব্যাহত থাকার অভিযোগ আসায় এর বাস্তবায়ন বিলম্বিত হচ্ছে। কাগজেকলমে 'যুদ্ধবিরতি' চালু থাকলেও প্রায় প্রতিদিনই ইসরায়েলি হামলায় ফিলিস্তিনি নিহতের সংবাদ পাওয়া যায়।

গাজার হামাস নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি চালুর পর এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় ৪৫১ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

ফিলিস্তিনিদের মূল দাবি হলো গাজা উপত্যকা থেকে পাকাপাকিভাবে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার। শান্তি পরিকল্পনায় বিষয়টির উল্লেখ থাকলেও সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বা বিস্তারিত তথ্য যুক্ত করা হয়নি।

অপরদিকে, ইসরায়েলের মূল দাবি হামাসের 'নিরস্ত্রীকরণ'। তেল আবিবের ভাষায়, এই দাবি নিয়ে তারা দরকষাকষি করবে না। তবে হামাস এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই শর্তে সায় দেয়নি।

বুধবার ট্রাম্পের বিশেষ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ট্রুথ সোশালে পোস্ট করে বলেন, 'হামাস সব ধরনের শর্ত পুরোপুরি মেনে নেবে', এটাই ওয়াশিংটনের প্রত্যাশা।

সাম্প্রতিক সময়ে, ইসরায়েলি হামলায় ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাসের বেশিরভাগ শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন। এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে নতুন করে অভ্যন্তরীণ নির্বাচনের উদ্যোগ নিয়েছে সংগঠনটি।

গত সোমবার এএফপিকে এক হামাস নেতা বলেন, '২০২৬ এর প্রথম কয়েক মাসের মধ্যেই ভোট শেষ হবে।'

ট্রাম্প উইটকফের পোস্ট শেয়ার করে বলেন, 'এসব ফিলিস্তিনি নেতা শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যতের প্রতি অবিচল ও অঙ্গীকারবদ্ধ।'

তার নিজের বেছে নেওয়া 'অন্তর্বর্তী প্রশাসনের' দিকে ইঙ্গিত করে ট্রাম্প এ কথা বলেন।

'মিশর, তুরস্ক ও কাতারের সমর্থনে আমরা হামাসের সঙ্গে একটি পরিপূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি নিশ্চিত করব। এই চুক্তির আওতায় থাকবে অস্ত্রসমর্পণ ও সুড়ঙ্গ বন্ধের উদ্যোগ', যোগ করেন ট্রাম্প।