আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের প্রতি জেলেনস্কির আহ্বান: ইউক্রেনের পাশে থাকুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর প্রতি ইউক্রেনের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। সোমবার কিয়েভে প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি শক্তিধর দেশ এই সংঘাত থেকে সরে দাঁড়াতে পারে না। সাক্ষাৎকারটি প্রচার করে সিএনএন।

রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের চতুর্থ বার্ষিকীর প্রাক্কালে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেন একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে একজন ব্যক্তির আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়ছে। তিনি বলেন, ‘এটি কোনো দেশের যুদ্ধ নয়, এটি একজন মানুষের যুদ্ধ। ভ্লাদিমির পুতিন নিজেই যুদ্ধ।’ যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিই পুতিনকে থামাতে চায়, তাহলে তাদের সক্ষমতা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে পুতিনের ওপর যথেষ্ট চাপ দেওয়া হচ্ছে কি না জানতে চাইলে জেলেনস্কি বলেন, ‘না’।

সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেন, দীর্ঘ যুদ্ধ ইউক্রেনীয়দের ক্লান্ত করে তুলেছে। তবু পুতিনের দাবি মেনে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে জানান তিনি। জেলেনস্কির ভাষায়, রাশিয়ার সব দাবি মেনে নিলে দেশ হারাতে হবে এবং মানুষকে হয় পালাতে হবে, নয়তো রুশ নাগরিক হতে হবে। যুদ্ধ পঞ্চম বছরে প্রবেশ করলেও ইউক্রেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান ত্রিপক্ষীয় শান্তি আলোচনা এখনো কোনো অগ্রগতিতে পৌঁছায়নি।

জেলেনস্কি বলেন, ভবিষ্যতে রাশিয়া আবার আক্রমণ করলে ইউক্রেনের মিত্ররা কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, সেই নিরাপত্তা নিশ্চয়তা এখনো বড় প্রশ্ন হয়ে আছে। কেবল এই আশ্বাস যে রাশিয়া আর যুদ্ধ শুরু করবে না, তা গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা অনুমোদিত হলে তবেই ইউক্রেনের জনগণ আস্থার সঙ্গে ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে পারবে।

তিনি আরও জানান, বর্তমান যুদ্ধরেখায় সংঘাত স্থগিত রাখার বিষয়ে ইউক্রেন প্রস্তুত থাকলেও পূর্ব দোনেৎস্ক অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার করা হবে না। ওই এলাকায় প্রায় দুই লাখ মানুষ বসবাস করে উল্লেখ করে জেলেনস্কি বলেন, তাদের নিরাপত্তা নিয়ে আপস করা সম্ভব নয়।

সাক্ষাৎকারে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও নির্বাচন প্রসঙ্গেও কথা বলেন জেলেনস্কি। যুদ্ধকালীন সামরিক আইনের কারণে নির্বাচন আয়োজন সম্ভব না হলেও এ নিয়ে বিদেশি নেতাদের মন্তব্যে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। ভিন্ন কোনো নেতা এলে তিনি রাশিয়ার কাছে নতি স্বীকার করবেন কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন জেলেনস্কি।

সাক্ষাৎকারের আগে নিহত ইউক্রেনীয় সেনাদের পরিবারের সদস্যদের হাতে রাষ্ট্রীয় পদক তুলে দেন জেলেনস্কি। পরে তিনি বলেন, এই দায়িত্ব তার জন্য সম্মানের হলেও তা অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও আবেগঘন।

সূত্র: সিএনএন