আন্তর্জাতিক

শান্তিচুক্তির অংশ হিসেবে বাফার জোন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন জেলেনস্কি

নিজস্ব প্রতিবেদক

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি শান্তিচুক্তির অংশ হিসেবে ইউক্রেন ও রাশিয়ার বাহিনীর মাঝে বাফার জোন তৈরির প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন। তার মতে, এ ধরনের প্রস্তাব আধুনিক যুদ্ধ বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে।

শুক্রবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘যারা আজকের যুদ্ধের প্রযুক্তিগত অবস্থা বোঝে না, কেবল তারাই বাফার জোনের কথা বলতে পারে।’

বিবিসি জানিয়েছে, সম্প্রতি ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি বাফার জোন গঠনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা যায়। তবে জেলেনস্কির মতে, ড্রোন-নির্ভর আধুনিক যুদ্ধে এমন একটি অঞ্চল কার্যত ইতোমধ্যেই বিদ্যমান।

তিনি বলেন, ‘আজ আমাদের ভারী অস্ত্র একে অপরের থেকে অন্তত ১০ কিলোমিটার দূরে রাখা হয়। কারণ কাছাকাছি আনলেই ড্রোন হামলার ঝুঁকি থাকে। তাই ইতোমধ্যেই এক ধরনের ‘ডেড জোন’ বা ‘গ্রে জোন’ তৈরি হয়েছে।’

জেলেনস্কি আরও স্পষ্ট করেন, বাফার জোন মানে ইউক্রেনকে কিছু এলাকা ছেড়ে দেওয়া—এমন ধারণা তিনি মানতে রাজি নন। তার ভাষায়, ‘রাশিয়া যদি আরও দূরে যেতে চায়, তবে তাদের উচিত ইউক্রেনের দখলকৃত অঞ্চল থেকে সরে যাওয়া।’

তিনি অভিযোগ করেন, রাশিয়া এখনো কূটনীতির জন্য প্রস্তুত নয়, বরং যুদ্ধের ইতি টানা বিলম্বিত করার পথ খুঁজছে।

এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা গতি হারাচ্ছে। সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, জেলেনস্কি ও ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠকের পর পুতিন-জেলেনস্কি শীর্ষ সম্মেলনের আশা তৈরি হয়েছিল। তবে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ বলেছেন, এমন বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা এখন প্রায় নেই।

গত বৃহস্পতিবার রাশিয়া কিয়েভে একযোগে ৬০০-র বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এতে অন্তত ২৩ জন নিহত হন। এ হামলা ছিল যুদ্ধ শুরুর পর অন্যতম বড় আকাশি আক্রমণ। এমনকি দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ইউরোপীয় ইউনিয়নের কার্যালয়ের কাছেও গিয়ে পড়ে।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং জার্মান চ্যান্সেলর মার্জ হামলার পর রাশিয়ার ওপর আরও চাপ বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছেন। ম্যাক্রোঁ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সোমবারের মধ্যে আলোচনায় সম্মত না হলে আবারও প্রমাণ হবে পুতিন কেবল সময়ক্ষেপণ করছেন।

এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের প্রধান উপদেষ্টা আন্দ্রি ইয়ারমাক নিউইয়র্কে মার্কিন বিশেষ দূত, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সব শান্তি উদ্যোগকে ইউক্রেন স্বাগত জানালেও প্রতিবারই রাশিয়ার কারণে তা আটকে যাচ্ছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে, যদি রাশিয়ার সঙ্গে কোনো চুক্তি হয় তবে ইউক্রেনকে ন্যাটো ধাঁচের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দিতে হবে। তবে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা পশ্চিমা প্রস্তাবগুলোকে একপেশে আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এগুলো রাশিয়ার নিরাপত্তা স্বার্থ বিবেচনায় নিচ্ছে না।