জাতির উদ্দেশে দেয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের গুরুত্বপূর্ণ ভাষণে ইরানের প্রতি দেয়া চূড়ান্ত সতর্কবার্তাকে উপহাস করেছে তেহরান। তার ভাষণের পরপরই ইসরাইলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান। টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তা হুঁশিয়ারি দেন, মার্কিন বাহিনীর আত্মসর্ম্পণ না করা পর্যন্ত যুদ্ধ চলবে।
ভাষণে ট্রাম্প বলেন, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরানের ওপর ‘অত্যন্ত কঠোর’ আঘাত হানা হবে এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্রকে ‘প্রস্তর যুগে’ ফিরিয়ে আনা হবে।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা যে অগ্রগতি অর্জন করেছি, তার সুবাদে আমি বলতে পারি যে, আমরা খুব শিগগিরই আমেরিকার সমস্ত সামরিক লক্ষ্য পূরণের পথে রয়েছি। খুব শিগগিরই। আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে আমরা তাদের ওপর অত্যন্ত কঠোর আঘাত হানতে যাচ্ছি। আমরা তাদের প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে নিয়ে যাব, যেখানে তাদের থাকা উচিত।’
ট্রাম্পের হুমকির জবাবে ইরানের সামরিক বাহিনী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে ‘চূর্ণকারী’ হামলার অঙ্গীকার করে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে ইরানের সামরিক বাহিনীর অপারেশনাল কমান্ড খাতাম আল-আনবিয়া বলেন, ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর আস্থা রেখে বলছি, এই যুদ্ধ তোমাদের অপমান, লাঞ্ছনা, স্থায়ী ও নিশ্চিত অনুশোচনা এবং আত্মসমর্পণ পর্যন্ত চলবে। আমাদের আরও চূর্ণকারী, ব্যাপকতর এবং আরও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের জন্য অপেক্ষা করো।’
এদিকে, ট্রাম্প আরও বলেন, ওয়াশিংটনের লক্ষ্য কখনোই শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ছিল না, কিন্তু ইরানের সকল মূল নেতার মৃত্যুর কারণে তা ঘটেছে।
তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে, যদি কোনো চুক্তি না হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রতিটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে খুব কঠোর আঘাত হানবে।
ডনাল্ড ট্রাম্পের ভাষণের আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান মার্কিন জনগণকে লেখা এক চিঠিতে বলেছেন যে, তার দেশ সাধারণ আমেরিকানদের প্রতি কোনো বিদ্বেষ পোষণ করে না।
তবে, অদূর ভবিষ্যতে এই সংঘাতের অবসানের আশা করা এখনও অনিশ্চিত। বুধবার রয়টার্সকে ইরানের এক ঊর্ধ্বতন সূত্র জানিয়েছে যে, তেহরান তার হামলা বন্ধ করতে একটি নিশ্চিত যুদ্ধবিরতি চাইছে এবং মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কোনো অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা হয়নি।
নিউইয়র্ক টাইমস পৃথকভাবে জানিয়েছে যে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মনে করে, যুদ্ধ শেষ করার জন্য ইরান বর্তমানে অর্থপূর্ণ আলোচনায় বসতে অনিচ্ছুক।
অন্যদিকে, ট্রাম্পের ভাষণের পর বাজারে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সংঘাতের দ্রুত অবসানের কোনো সুস্পষ্ট পথ না পেয়ে বিনিয়োগকারীরা হতাশ হওয়ায় শেয়ারের দরপতন এবং তেলের দাম বেড়ে যায়।
ইরানকে দেয়া ট্রাম্পের চূড়ান্ত সতর্কবার্তার পর তেলের দাম আবার বেড়ে যায়। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সর্বোচ্চ ৬ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৮ ডলার ছাড়িয়ে যায়।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস