আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ উন্মুক্ত, তবে নতুন শর্ত আরোপ করেছে ইরান

নিজস্ব প্রতিবেদক

হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ঘোষণা করা হলেও নতুন শর্ত আরোপ করেছে ইরানের ইসলামী রেভুলেশনারি গার্ড ক্রপস (আইআরজিসি)।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী সব জাহাজকে তাদের অনুমতি নিতে হবে। বেসামরিক জাহাজগুলো কেবল ইরান নির্ধারিত রুট ব্যবহার করতে পারবে এবং সামরিক জাহাজ চলাচল এখনও নিষিদ্ধ থাকবে।

আইআরজিসি এই নির্দেশনাকে নতুন আদেশ হিসেবে উল্লেখ করে জানায়, এটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ঘোষণা দেন, লেবাননে যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে বাকি সময়ের জন্য হরমুজ প্রণালী দিয়ে সব বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ‘সম্পূর্ণ উন্মুক্ত’ থাকবে। তবে তার ঘোষণায় এসব শর্তের বিষয়ে স্পষ্ট করা হয়নি।

এক্সে দেওয়া পোস্টে আরাঘচি লিখেন, লেবাননের যুদ্ধবিরতির আলোকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে সব বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ঘোষণা করা হলো, যা ইরানের বন্দর ও সামুদ্রিক সংস্থা নির্ধারিত সমন্বিত রুট অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

তবে তার এই ঘোষণার পর ইরানের রাষ্ট্রসমর্থিত কয়েকটি গণমাধ্যম সমালোচনা করে। তাসনিম সংবাদ সংস্থা তার বক্তব্যকে ত্রুটিপূর্ণ ও অসম্পূর্ণ বলে উল্লেখ করে এবং এতে অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করে। অপর আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহর জানায়, সাম্প্রতিক যুদ্ধে হরমুজ প্রণালী ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত উপাদান এবং সর্বোচ্চ নেতার বক্তব্য অনুযায়ী এটি বন্ধ রাখা উচিত।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত। তিনি লিখেছেন, ইরান ঘোষণা করেছে যে প্রণালীটি পুরোপুরি খোলা এবং চলাচলের জন্য প্রস্তুত ধন্যবাদ!

তবে আলাদা এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, প্রণালী খোলা থাকলেও ইরানের সঙ্গে চলমান ‘লেনদেন’ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ পুরোপুরি বহাল থাকবে।

তিনি আরও দাবি করেন, ইরান ভবিষ্যতে আর কখনও হরমুজ প্রণালী বন্ধ করবে না এবং এটিকে বৈশ্বিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করা হবে না বলে সম্মত হয়েছে।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১০ শতাংশ কমে গেছে।