প্রাণঘাতী রোগ অ্যাকোয়ার্ড ইমিউনো ডেফিসিয়েন্সি সিনড্রোম বা এইডসের টিকা তৈরির চেষ্টা করছেন রুশ বিজ্ঞানীরা। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী ২ বছর বা তারও কম সময়ের মধ্যেই টিকা প্রস্তুত হতে পারে বলে জানিয়েছেন দেশটির চিকিৎসা ও অনুজীববিজ্ঞান গবেষণা বিষয়ক সরকারি প্রতিষ্ঠান গামালেয়া সেন্টারের একজন বিশেষজ্ঞ।
গত বুধবার (২৭ আগস্ট) এক সাক্ষাৎকারে গামালেয়া সেন্টারের এপিডেমিওলজি বিভাগের প্রধান ভ্লাদিমির গুশচিন রিয়া নভোস্তিকে জানিয়েছেন, এই বহুল প্রতীক্ষিত ভ্যাকসিনটি এমআরএনএ প্রযুক্তি অনুসরণ করে প্রস্তুত করা হবে।
গুশচিন বলেন, ‘আমরা এখন এমন অ্যান্টিজেন তৈরির পর্যায়ে রয়েছি, যা একটি বিস্তৃতভাবে কার্যকর ইমিউন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। এই ভ্যাকসিন কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করবে আমরা যে ইমিউনোজেন ব্যবহার করছি, তা কতটা কার্যকরভাবে সব ধরনের এইচআইভি ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে পারে তার ওপর।’
তিনি আরও বলেন, এইচআইভি একটি অত্যন্ত বৈচিত্র্যময় ভাইরাস, যা ভ্যাকসিন তৈরির কাজটিকে খুবই কঠিন করে তোলে।
গামালেয়া সেন্টার আগেও বিশ্বের অন্যতম প্রথম কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ‘স্পুটনিক পাঁচ’ তৈরি করেছিল, যেটি ২০২০ সালের আগস্টে বাজারে ছাড়া হয়। ওই ভ্যাকসিন প্রায় ৯৭.৮ শতাংশ কার্যকার বলে দাবি করা হয়। এর কোনো গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলেও দাবি সংশ্লিষদের। এটা প্রায় ৭০টি দেশে অনুমোদিত হয়েছিল।
গুশচিন আরও বলেন, যদিও এইচআইভি ভ্যাকসিন তৈরির কাজ বহু বছর ধরেই চলছে, এমআরএনএ প্ল্যাটফর্মের একটি বড় সুবিধা হলো এটি অনেক বেশি শক্তিশালী ইমিউন প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে।
তার কথায়, ‘এটি একটি জেনেটিক্যালি ইঞ্জিনিয়ার্ড ভ্যাকসিন হবে, যা শুরুতে শুধুমাত্র কম্পিউটারে ডিজাইন করা হয়।’ তিনি আরও বলেন, ইনস্টিটিউট বর্তমানে এমন ইমিউনোজেন তৈরি করছে এবং পরীক্ষা করছে, যা সবচেয়ে বেশি সংখ্যক এইচআইভি স্ট্রেইনের বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে।
দ্বিতীয় ধাপে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় ইমিউনোজেনগুলো জটিল প্রাণী মডেলে পরীক্ষিত হবে। পুরো উন্নয়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে প্রায় দুই বছর সময় লাগবে বলে তিনি জানান।