আন্তর্জাতিক

ইরানের ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা ফেরানোর পথে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি

নিজস্ব প্রতিবেদক

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে উত্তেজনা আবারও বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি জাতিসংঘের বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ২০১৫ সালের ঐতিহাসিক চুক্তির মাধ্যমে এসব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছিল। এই পদক্ষেপের ফলে সক্রিয় হতে যাচ্ছে স্ন্যাপব্যাক মেকানিজম, যার আওতায় ৩০ দিনের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা আবার কার্যকর হতে পারে। খবর বিবিসির।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতির প্রধানের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলেন, এ তিন দেশ নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করার কোনো আইনি অধিকার রাখে না। তিনি দাবি করেন, রাশিয়া ও চীনও এ বিষয়ে ইরানের অবস্থানকে সমর্থন করছে। তবে ইরান জানায়, যদি অন্য পক্ষগুলো গুরুত্ব ও সদিচ্ছা দেখায়, তারা ন্যায্য আলোচনায় ফিরতে প্রস্তুত।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইউরোপীয় পদক্ষেপকে উস্কানিমূলক ও অপ্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করেছে। তাদের মতে, এটি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সঙ্গে চলমান সহযোগিতাকে বাধাগ্রস্ত করবে।

২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে হওয়া চুক্তিতে ইরান তার পরমাণু কর্মসূচি সীমিত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। বিনিময়ে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। কিন্তু ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে চুক্তি থেকে সরিয়ে নিয়ে পুনরায় কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। এরপর ইরানও ধীরে ধীরে তার পরমাণু কার্যক্রম বাড়াতে থাকে।

চুক্তিতে থাকা স্ন্যাপব্যাক ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো দেশ মনে করে ইরান তার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছে, তবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে অবহিত করে নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করা যাবে।

ই থ্রি দেশগুলো নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানো চিঠিতে অভিযোগ করেছে, ইরানের অনিয়ম ইচ্ছাকৃত। তাদের মতে, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুতের কোনো যৌক্তিকতা নেই, বরং এটি বৈশ্বিক শান্তির জন্য হুমকি।

যুক্তরাষ্ট্র এই প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানিয়েছে এবং নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে ই থ্রি দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছে। তবে ওয়াশিংটন জানায়, শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য ইরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার পথও খোলা রয়েছে।

ইরান বারবার জোর দিয়ে বলছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক কাজে ব্যবহারের জন্য। তবে পশ্চিমা দেশগুলো ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা এখনো আশ্বস্ত নয়।