আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে চ্যানেল আই’র নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে একটি ভুয়া বা ক্লোন ওয়েবসাইট পরিচালনার অভিযোগে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলটি।
বিষয়টিকে গুরুতর ডিজিটাল অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
আজ বুধবার চ্যানেল আই-এর জেনারেল ম্যানেজার (অপারেশন্স) হেলাল খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
সাধারণ ডায়েরিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাচনকে সামনে রেখে চ্যানেল আই অনলাইন পোর্টাল ক্লোন করা ভুয়া পোর্টাল আমাদের নজরে এসছে।
একটি ভুয়া পোর্টালের ওয়েব ঠিকানা: www.channelionlinenews.com, ক্লোন করা এরকম আরো পোর্টালের অস্তিত্ব থাকতে পারে।
সেজন্য আপনার অবগতির জন্য জানিয়ে রাখতে চাই, চ্যানেল আইয়ের একমাত্র ওয়েব পোর্টালের ঠিকানা: www.channelionline.com এর বাইরে আমাদের আর কোনো পোর্টাল/ওয়েবসাইট নেই। চ্যানেল আই নাম ব্যবহার করে অন্য পোর্টাল/ওয়েবসাইট বা দেখতে একইরকম ভুয়া কোনো পোর্টাল/ওয়েবসাইটের ভুয়া সংবাদ/ছবি/ভিডিও/ফটোকার্ডের জন্য চ্যানেল আই কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না।
একইসঙ্গে আপনার অবগতির জন্য জানিয়ে রাখতে চাই, ফেসবুকে দেখতে চ্যানেল আইয়ের মতো ভুয়া কিছু পেজ চালু করা হয়েছে। একটি পেজের নাম Channel Ai. ফেসবুকে এরকম আরো ভুয়া পেজ/অ্যাকাউন্ট থাকতে পারে। তাদের কোনো কার্যক্রমের দায়-দায়িত্বও চ্যানেল আইয়ের নয়। বিষয়টি ফেসবুক কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে।
জিডিতে বলা হয়েছে, অনুমতি ছাড়াই চ্যানেল আই’র ব্র্যান্ড ব্যবহার করে ওয়েবসাইটটি পরিচালনা করা হচ্ছে, যা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ বিদ্যমান আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
চ্যানেল আই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সম্প্রতি তাদের নজরে আসে একটি ওয়েবসাইট, যেখানে চ্যানেল আই’র নাম, লোগো ও কনটেন্টের আদলে ভুয়া তথ্য ও সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে। এতে দর্শক ও পাঠকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার পাশাপাশি চ্যানেলটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিষয়টি তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে দর্শক ও অনলাইন পাঠকদের ভুয়া ওয়েবসাইট ও বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুর রহমান চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, জিডির ভিত্তিতে প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে। কারা বা কোন চক্র এই ক্লোন ওয়েবসাইট পরিচালনা করছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিজিটাল নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের ক্লোন ওয়েবসাইট শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করে না, বরং সাধারণ মানুষের বিশ্বাস ও তথ্য নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি তৈরি করে। তাই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।